ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পক্ষে বেশিরভাগ আমেরিকান

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৬ এএম

জাতিসংঘের প্রত্যেকটি সদস্য দেশের ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বেশিরভাগ আমেরিকান। শুধু তাই নয়, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক প্রতিক্রিয়াও মাত্রাতিরিক্ত বলেও মনে করেন তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসোসের চালানো এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ আমেরিকান ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির পক্ষে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইসরায়েল ও হামাসের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে জরিপের এই ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বিপরীতে ৩৩ শতাংশ আমেরিকান ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি ৯ শতাংশ আমেরিকান। নতুন এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৪৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কানাডা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এসব দেশের ঘোষণার পর রয়টার্স-ইপসোসের ওই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এই জরিপ এমন সময় পরিচালিত হয়েছে, যখন ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে আশা দেখা দিয়েছিল। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলে অবরুদ্ধ উপত্যকায় সংঘাতে বিরতি, কিছু জিম্মির মুক্তি ও মানবিক সহায়তার চালান সহজে প্রবেশ করতে পারবে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন, গাজায় অনাহারে থাকা মানুষের সহায়তায় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। যদিও ২৮ শতাংশ আমেরিকান এই পদক্ষেপের বিরোধী বলে মত দিয়েছেন। ভিন্নমত পোষণকারীদের মধ্যে রিপাবলিকান দলীয় সমর্থকদের হার অন্তত ৪১ শতাংশ। জরিপে দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ আমেরিকান গাজায় ইসরায়েলের সামরিক প্রতিক্রিয়া মাত্রাতিরিক্ত হয়েছে বলে মনে করেন। আর ৩৩ শতাংশ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। ট্রাম্প ও তার অনেক রিপাবলিকান সহযোগী ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাস করেন। তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ শুধু আমেরিকানদের জন্য ব্যয় হওয়া উচিত, বাইরের জন্য নয়। এ কারণে তারা আন্তর্জাতিক খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচিতে বড় কাটছাঁটের পক্ষে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত