চট্টগ্রামে ২ গণমাধ্যমকর্মীকে পুলিশের হেনস্তা, তীব্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম

ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে চ্যানেল ২৪-এ প্রচারিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে ১৯ আগস্ট রাতে নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের দেওয়া বার্তা কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের ওই বার্তাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি ‘হুমকি’ হিসেবেই দেখছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। 

এদিকে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নগরের ডবলমুরিং থানায় দায়িত্ব পালনরত এক সাংবাদিককে ২০ মিনিট হাজতে আটেক রাখা হয় এবং আরও এক সাংবাদিককে হেনস্থার শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চ্যানেল২৪-এর প্রতিবেদনে দেখানো হয়, পুলিশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে জরিমানা আদায় করছে, পরে সেই রিকশা আবার ধরা হচ্ছে। জরিমানার নামে নেওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রচারিত ওই সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক’ দাবি করে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করেন ‘পুলিশ বাহিনীর কোনো কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ করা বেআইনি এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের শামিল। ভবিষ্যতে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বুধবার পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে রাতে সংবাদ সংগ্রহে ঘটনাস্থলে যান দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক সাহিদুল ইসলাম মাসুম। তখন পোশাকশ্রমিকরা বকেয়া  বেতনের দাবিতে থানা প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল। এ সময় ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আজাদ পেশাগত দায়িত্বপালনকালে মাসুমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। পরে সাংবাদিকরা জড়ো হয়ে তার কার্যালয়ে গেলে সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে ওসি তাকে টেনে-হিঁচড়ে হাজতে নিয়ে আটকে রাখেন। 

প্রায় ২০ মিনিট তাকে আটকে রাখার পর আবার তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় দৈনিক আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবদুল কাইয়ুমের সঙ্গে। 

সাংবাদিক সাহিদুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে আমি সেটি লাইভ করছিলাম। তখন ওসি আমাকে গালাগালি করেন। এরপর তিনি আমাকে থানায় আটকে রাখেন।’

হেনস্তার শিকার সাংবাদিক আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘ডবলমুরিং থানার ওসিকে পরিচয় দেওয়ার পরেও তিনি চরম দুর্ব্যবহার করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সহকর্মী মাসুমকে আটক করে হাজতে রাখেন। যদিও পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ২০ মিনিট পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’ 

এদিকে পুলিশ কমিশনারের হুমকিস্বরূপ প্রতিবাদ এবং সাংবাদিক হেনস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে), চট্টগ্রাম টেলিভিশন রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক (সিটিআরএন) এবং চট্টগ্রাম মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিএমআরইউ)।

সিএমপির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায় থেকে হুমকিমূলক বক্তব্য ফ্যাসিবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে সিইউজে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘নিজেদের অনিয়ম আড়াল করতে ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দমন করা যাবে না। যদি কোনো প্রতিবেদনে সত্যতা থাকে, তবে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়াই সঠিক পথ। অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

এদিকে সিএমপি কমিশনারের বিবৃতি প্রতিবাদের আড়ালে ‘ক্ষমতা জাহিরের’  চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে চট্টগ্রাম টেলিভিশন রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক। তার কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত