চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজন

ছাগলনাইয়ায় রবীন্দ্র-নজরুল প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে স্মরণোৎসব

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৩ পিএম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে স্মরণোৎসব ও সংস্কৃতি সন্ধ্যা। গতকাল শনিবার বিকাল ৪টায় ছাগলনাইয়া গণপাঠাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণোৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সংস্কৃতি হলো জাতির আত্ম-পরিচয়। আমাদের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে তা নিয়ে আমরা নিঃসন্দেহে গর্ব করতে পারি। এই অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে যদি আমরা ধরে রাখতে না পারি। তাহলে আমাদের স্বাধীন সত্তা দুর্বল হয়ে যাবে। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

এজন্য আমাদেরকে নজরুল-রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্মের অনুশীলনের মাধ্যমে সাহিত্যকে সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সবাইকে এর জন্য কাজ করতে হবে। তিনি আয়োজক প্রতিষ্ঠান চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

স্মরণোৎসবে সভাপতিত্ব করেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছাগলনাইয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন। ফেনী জেলা চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্য সচিব শামীম পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- ছাগলনাইয়া গণপাঠাগারের সভাপতি আবদুস সালাম সরকার, মৌলভী সামছুল করিম কলেজের বাংলা প্রভাষক কবি শিরিন রহমান, ছাগলনাইয়া গণপাঠাগার সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আবুল কালাম আজাদ, কবি ও সাহিত্য সম্পাদক বকুল আকতার দরিয়া ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ফেনী জেলার আহ্বায়ক অর্জুন দাস। অনুষ্ঠানে চারণের শিক্ষার্থী-অভিভাবক ছাড়াও সাংবাদিক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বসহ শতাধিক সংগীত পিপাসু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান অনন্য। তাদের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও চেতনা যুগে যুগে জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে। নজরুল তার কবিতা, গান ও লেখনীর মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অসাম্প্রদায়িকতার বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। অপরদিকে, রবীন্দ্রনাথ তার মানবতাবাদ, নান্দনিকতা ও বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন।

প্রয়াণ দিবসের এ আয়োজনে বক্তারা নতুন প্রজন্মকে রবীন্দ্র-নজরুলের জীবন ও কর্ম থেকে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, মানবিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনের শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের চেতনা আমাদের সাহিত্য, সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে যুগে যুগে বাঁচিয়ে রাখবে।’

স্মরণোৎসবের আলোচনা শেষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতি সন্ধ্যায় রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল গীতি পরিবেশন করেন। আবৃত্তি করেন তাদের কবিতা। উল্লেখ্য গত ৭ আগস্ট বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং আগামী ২৯ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত