ড্যাপ নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ভূমিমালিকদের

কাঠাপ্রতি ‘মনগড়া’ ইউনিট সংখ্যা বাতিলের দাবি

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

ড্যাপ নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে কাঠাপ্রতি ‘মনগড়া’ ইউনিট সংখ্যা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। বৈষম্যমূলক ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) স্থগিত করে আগের জনবান্ধব ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮ এর আলোকে নতুন ভবন তৈরির আইন চেয়েছে তারা।

তাদের দাবি, নতুন ড্যাপের কারণে ঢাকার দুই লাখেরও বেশি জমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দাবি আদায়ের জন্য দেশের আইন-আদালত এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন ভূমি মালিকরা।

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক প্রফেসর ড. দেওয়ান এমএ সাজ্জাদ। এ সময় অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক তানভীরুল ইসলাম চৌধুরী, কে এম এজাজ মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার হুমায়ূন কবির শিমুল, অ্যাডভোকেট রেজাউল হোসেন (সুপ্রিম কোর্ট), সাংবাদিক বাবলু রহমান, সৈয়দা আফসারুন নাহার লিজাসহ অন্য সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক প্রফেসর ড. দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ বলেন, নতুন ড্যাপে জমির মালিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভবনের উচ্চতা ও আয়তন অযৌক্তিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই পরিমাণ জমিতে আগে যেখানে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা যেত, বর্তমানে সেখানে কেবল ৫ তলা অনুমোদন মিলছে। এতে জমির মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ড্যাপে কাঠাপ্রতি ইউনিট সংখ্যা হ্রাস এবং এফএআর কমিয়ে দিয়ে ড্যাপ-এর নামে রাজউকসহ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জমির মালিকদের ঠকিয়েছে এবং বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। নতুন ড্যাপ পাস হওয়ার পর নিয়ম ভেঙে ঘুষের বিনিময়ে অনেক বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। ড্যাপ শক্ত করে আইন করলেও এটা হবে শুধু ঘুষের ফাঁদ। আপনারা দেখেছেন শক্ত আইনকানুন থাকার পরেও কীভাবে সিলেটের সাদা পাথর ‘নাই’ হয়ে গেল। তিন বছর হলো ড্যাপ হলেও এর মধ্যে অনেক নদীনালা, খালবিল ভরাট হয়ে গেছে। সরকারের সেদিকে কোনো নজর নেই। ৩ বছরে ঢাকায় পরিকল্পিতভাবে কোনো রাস্তাঘাট তৈরি হয়নি। সরকার শুধু কাগজে-কলমে একটা ড্যাপ করেই বসে আছে।

তারা একটা বিষয় নিয়েই শুধু পড়ে আছে ভবন ওপরের দিকে নির্মাণ করতে দেবে না। নগর পরিকল্পনাবিদরা যে পরিকল্পনা করেছেন সেটার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তারা ঢাকার যে প্ল্যান করেছে তাতে অনেক লোকের ঢাকা ছাড়তে হবে। সেই লোকগুলো কোথায় কীভাবে থাকবে তার পরিকল্পনা নেই। আমরা শুনতে পেয়েছি ৩ বছর পর পর ঢাকার ড্যাপ পরিবর্তন হবে। একটা বিল্ডিং বানানো কি ছেলের হাতে মোয়া! যে একটা বিল্ডিং এখন ৫ তলা তৈরি করলাম। ৩ বছর পর নিয়ম পরিবর্তন হবে তখন আবার ৮ তলা তৈরি করব?

লিখিত বক্তব্যে ভূমি মালিকরা বলেন, একটা শহরের পরিকল্পনা হওয়া উচিত ৫০ বছরকে টার্গেট ধরে। ঢাকায় আগামীতে লোকসংখ্যা বাস্তবতার কারণেই আরও বাড়বে। আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে। আমাদের নতুন নতুন রাস্তা বানাতে হবে। কিন্তু নতুন ড্যাপের যে সংশোধনী আনা হচ্ছে সেখানে ১২ এবং ১৬ ফুট রাস্তাগুলোকে বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আমাদের যে হারে দেশের লোক বাড়ছে তাতে আগামী ৩০ বছর পর কৃষিজমি ব্যাপকভাবে কমে যাবে। কৃষিজমি রক্ষায় এখনই সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষিজমিতে কোনো বাড়ি বানানো যাবে না। খালবিল রক্ষা করতে হবে। কিন্তু ওপরের দিকে ভবন তৈরি করতে না দিলে এবং কাঠাপ্রতি ইউনিট সংখ্যা কমিয়ে দিলে দ্রুত হারে কৃষিজমি খালবিল শেষ হয়ে যাবে।

তারা আরও বলেন, তখন দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেবে। খালবিল না থাকায় বন্যা দেখা দেবে। একটু বৃষ্টিতে শহরগুলো পানিতে ভাসবে। একটি মহল মনে হচ্ছে সেটি বাস্তবায়ন করে দেশকে পঙ্গু করার পরিকল্পনা করেছে। আমরা ঢাকার ভূমি মালিকরা তা হতে দেব না। আকাশের দিকে জায়গা অফুরন্ত। আমরা ঢাকাবাসী সেটা কাজে লাগাতে চাই। আমরা রাস্তার জন্য জমি দিতে প্রস্তুত। রাস্তা সম্প্রসারণ করতেও প্রস্তুত।

ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ৪টি দাবি উপস্থাপন করা হয়। ১. ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আলোকে ড্যাপ ২০২৫-৩৫ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন; ২. বৈষম্যমূলক এফএআর সিস্টেম ও কাঠাপ্রতি ইউনিট সংখ্যা বাতিল করা; ৩. নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং রাজউকের হয়রানি বন্ধ করা এবং ৪. ড্যাপ সংশোধনী সংক্রান্ত সভাগুলোতে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে অংশীজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত