ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ। গতকাল সোমবারের এই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ৫ সাংবাদিক নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে চলমান বন্দিবিনিময় প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান এয়াল জামির। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গাজা নগরী দখলের পরিকল্পনা বন্দিদের জীবনের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
ফিলিস্তিনের সরকারি মিডিয়া কার্যালয়ের বরাতে আল জাজিরা বলছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। এটিই উপত্যকাটির প্রধান মেডিকেল ফ্যাসিলিটি। এতে হতাহতদের মধ্যে সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। এসব সাংবাদিক বিশ্বের বিভিন্ন প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। বিবিসি বলছে, এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি কর্র্তৃপক্ষ। তবে ওই হাসপাতালেই হামলা হয়েছে কি না, সেটি তারা নিশ্চিত করেনি। এ তথ্য জানতে তদন্ত শুরু করেছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরি। তিনি হামলার সময় হাসপাতালের ছাদ থেকে লাইভ করছিলেন বলে জানা যায়। প্রথম হামলায় তিনি নিহত হন। এরপর হাসপাতালের সিঁড়িতে তার ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, প্রথম হামলার পর অনেকে একটি ভবনে গিয়ে আশ্রয় নেয়, এরপর ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা এপি বলছে, হামলায় তাদের ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ সালামা। নিহত বাকি দুজন হলেন মোয়াজ আবু তাহা ও আদমাদ আবু আজিজ। সাংবাদিকদের সংগঠন দ্য কমিটি ফর প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বলছে, এ নিয়ে ২২ মাসের হামাস-ইসরায়েল সংঘাতে ২৪৪ জন সাংবাদিক প্রাণ হারালেন।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে জিম্মি মুক্তি প্রস্তাবে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। গাজায় থাকা অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে একটি চুক্তি আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সেনাপ্রধানের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল থারটিন জানিয়েছে, চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। হামাস গত সপ্তাহে ওই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছিল।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে তেল আবিবে কয়েক লাখ মানুষ গাজা যুদ্ধের অবসান ও হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। জিম্মি ও নিখোঁজদের পরিবার সংগঠন (হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম) জানিয়েছে, জামিরের বক্তব্য অধিকাংশ ইসরায়েলির দাবির প্রতিফলন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে অবশিষ্ট ৫০ জন জিম্মিকে ফিরিয়ে আনাএবং যুদ্ধের সমাপ্তি। অবশ্য জিম্মিদের মাত্র ২০ জন বেঁচে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংগঠনটি মঙ্গলবার আরেক দফা ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
