ভারতের পণ্যে ৫০% শুল্ক কার্যকর যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৪২ এএম

ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ (শাস্তিমূলক) শুল্ক আরোপের আনুষ্ঠানিক নোটিস জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আজ রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম) থেকে এ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এছাড়া আরও ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বহাল রয়েছে। ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াল ৫০ শতাংশ। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রুশ সরকারের ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকির’ জবাবে এ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। সেই নীতির অংশ হিসেবে ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি ব্যাপক মাত্রায় হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর: এনডিটিভি

মার্কিন প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই নথির সংযুক্ত তালিকায় উল্লিখিত ভারতীয় পণ্যগুলো ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম) থেকে আমদানি কিংবা ভোগের জন্য গুদাম থেকে উত্তোলনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশ। মূলত রাশিয়ার তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পণ্যে এ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। ফলে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। ভারত জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় স্বার্থরক্ষায় তারা ছাড় দেবে না।

শাস্তিমূলক মার্কিন শুল্ক কার্যকর হওয়ার দুদিন আগে গত সোমবার আহমেদাবাদে এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, অর্থনৈতিক চাপ যতই আসুক, ভারত তা সহ্য করবে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে থাকবে। মোদি বলেন, ‘যতই চাপ আসুক, তা সামলানোর শক্তি আমরা বৃদ্ধি করব।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার সরকার কখনোই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক ও পশুপালকদের ক্ষতির মুখে ফেলবে না। মার্কিন শুল্কের প্রসঙ্গে পরোক্ষ ইঙ্গিত করে মোদি বলেন, ‘আজ পৃথিবীতে আর্থিক স্বার্থের রাজনীতি চলছে, সবাই শুধু নিজেদেরটা করছে। আমরা সেটা স্পষ্টই দেখছি।’ মোদি আরও বলেন, ‘আহমেদাবাদের মাটি থেকে, গান্ধীর ভূমি থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, দোকানদার, কৃষক ও পশুপালকদের স্বার্থই আমার কাছে সবার আগে। যত চাপই আসুক, আমরা তা সহ্য করে নেব।’

জানা যায়, ট্রাম্প ভারতের কাছ থেকে বড় কিছুর আশা করছিলেন। তার আশা ছিল, ভারতের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে, বিনিয়োগ ও বড় ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি আসবে। কিন্তু ভারতের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, ভারত তেমন ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিল না। দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তির আগে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ ও জ্বালানি আমদানির প্রতিশ্রুতি এবং চাল ও গরুর মাংস আমদানিতে ছাড় দিয়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক আদায় করেছে। কিন্তু ভারত তেমন কোনো চমকপ্রদ ছাড়ের কথা বলেনি; বরং তারা নিজেদের স্বার্থরক্ষায় কট্টর অবস্থানে ছিল। যে বিষয়ে ট্রাম্পও বলেছেন, ভারত আলোচনায় অত্যন্ত কড়া।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার পণ্য কেনা চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ রাশিয়ার তেল কেনার জন্য শুধু ভারতকে আলাদাভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণগুলো এখন আর কারও অজানা নয়। প্রথম কারণ, ভারতে আমদানি পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কারণে ভারতকে ‘ট্যারিফ কিং’ বলেছেন। দ্বিতীয় কারণ, সস্তায় রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা, যা ইউক্রেন যুদ্ধ জিইয়ে রাখতে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে সাহায্য করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ হুমকি ভারত যে মেনে নেবে না, তা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে। একাধিকবার বলেছে, জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিক স্বার্থ দেখা ভারত সরকারের কর্তব্য। রাশিয়া থেকে তেল কেনা সেই স্বার্থরক্ষার জন্যই।

ভারত বলেছে, ওই তেল কেনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভারত যে সাহায্য করেছে, সে কথাও যুক্তরাষ্ট্রকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারত এ কথাও জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও তার স্বার্থে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানি করেছে।

উচ্চশুল্কে ভারত চাপে পড়লেও এ ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও চীন। ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপোর্টস প্রমোশন কাউন্সিলের মতে, শুধু সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমে দাঁড়াতে চলেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। প্রাথমিক হিসাবে বার্ষিক রপ্তানি কমতে পারে ৪ হাজার কোটি ডলার। সবচেয়ে চিন্তায় রয়েছে পোশাক, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, জুয়েলারি, রতœ, গয়নাশিল্প, চিংড়ি মাছ ও সামুদ্রিক খাবার, কার্পেট, অটোমোবাইল ক্ষেত্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত