নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেন্ট্রাল কলেজ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০২:৪৮ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেন্ট্রাল কলেজ। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রাথমিক অনুমতি পেলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে নীতিমালার লঙ্ঘন করে ভিন্ন ঠিকানায়। কাগজপত্রে কলেজের ঠিকানা শহরের ভাদুঘর এলাকায়। তবে বাস্তবে ক্লাস চলছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে কলেজপাড়া এলাকায়, একটি ভাড়া বাসায়। সেখানে চলছে ভর্তি কার্যক্রম, লিফলেট বিতরণ ও নিয়মিত পাঠদান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য জমি ও স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং ইউএনওর প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ধাপগুলো এড়িয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রাথমিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভূমি কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ মার্চ কলেজের পরিচালক ও স্বঘোষিত অধ্যক্ষ সাহাদাত সরকার ভাদুঘর মৌজায় ৯০ ও ১০ শতাংশ জমির জন্য ‘ভূমির অখ-তা সনদ’ নেন। এ সনদ জমা দিয়েই শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়। অথচ ওই জমিতে কলেজ ভবন নির্মাণ হয়নি, এমনকি কোনো নির্মাণকাজও শুরু হয়নি।

গত এপ্রিল মাসে কলেজপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ করলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহাদাত সরকারকে শুনানিতে হাজির করেন। শুনানিতে সাহাদাত ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না বলে মুচলেকা দেন। এরপরও কলেজটি একই ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি কলেজের মাত্র কয়েক গজ পেছনেই এই ভাড়া বাসায় কলেজ চালানো হচ্ছে। অথচ নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এক কলেজ থেকে আরেক কলেজের দূরত্ব কমপক্ষে দুই থেকে তিন কিলোমিটার হতে হবে। তাদের অভিযোগ, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা কামালের সুপারিশে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা ‘ম্যানেজ’ হয়ে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ পরিচালক সাহাদাত সরকার বলেন, ‘ডিসি স্যারের সঙ্গে আমার মিটিং আছে। এ ব্যাপারে পরে কথা বলব। ঢাকা থেকে সাংবাদিকরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা একাডেমি সুপারভাইজার পাপিয়া আক্তার বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। কলেজ কর্তৃপক্ষের এমনটা করার কোনো অধিকার নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা আছে। তদন্ত চলছে। যদি প্রমাণ পাই তারা নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকেও পর্যবেক্ষণ চলছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শামসুল আলমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক নূরুন্নবী আলম বলেন, ‘শর্তসাপেক্ষে সাময়িক সময়ের জন্য স্থায়ী জায়গা থেকে অস্থায়ী জায়গায় কলেজ করতে পারবে। তবে সেটি যেকোনো সময় সরিয়ে নিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত