উপাচার্যসহ বিভিন্ন দপ্তরে ৫ দিন ধরে ঝুলছে তালা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ এএম

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসসহ ছয় দফা দাবিতে গত ৫ দিন ধরে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার ও বিভাগীয় কার্যালয়গুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে এসব দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করে গতকাল মঙ্গলবারও ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২১ সালে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে শহরের সরকারি গুরুদয়াল কলেজের ১০ তলা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। এ ভবনের পাঁচটি তলা ব্যবহার করছে বিশ্ববিদ্যালয়, বাকি তলাগুলো ব্যবহার করছে গুরুদয়াল কলেজ।

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দীলিপ কুমার বড়ুয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ জন শিক্ষক ও ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বিভাগ আছে। সেগুলো হচ্ছে গণিত, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন। প্রতিবছরই প্রতি বিভাগে ৩০ জন করে ১২০ জন শিক্ষার্থী যুক্ত হচ্ছেন। স্থান সংকুলানের অভাবে নতুন করে আর কোনো বিভাগও খোলা যাচ্ছে না।

ড. দীলিপ কুমার বড়ুয়া আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য সদর উপজেলার বৌলাই এলাকায় কিশোরগঞ্জ-মরিচখালী সড়কের পাশে ১০৩ একর জায়গা অধিগ্রহণের কথা রয়েছে। টাকাও বরাদ্দ হয়েছে। ক্যাম্পাসের অবকাঠামো নির্মাণ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। গুরুদয়াল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুশতাকুর রহমান জানান, কলেজের ১০ তলা ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবহারের লিখিত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর আর অনুমোদনের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিনের স্বাক্ষরিত একটি নোটিস জারি করা হয়। তাতে লেখা ছিল, ২৪ আগস্ট থেকে সরকারি গুরুদয়াল কলেজ কেন্দ্রে অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ থাকবে। এরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেন। এ সময় তারা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য কার্যালয়সহ অন্যান্য কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এ সময় উপাচার্যের কার্যালয়ের দুটি দরজাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যালয়ে তালা ঝুলানো দেখা গেছে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ৬ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে ক্যাম্পাস স্থানান্তর, অন্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে থেকে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করা, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ইমান আলী বলেন, আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস শোলমারা এলাকায় নির্মাণাধীন আইটি পার্কে স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন তারা। তাছাড়া বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য গত সোমবার ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে গিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত