দ্রুত টাকা পাঠাতে আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের অত্যাধুনিক সফটওয়্যার

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০১:১৯ এএম

দেশ রূপান্তর : বৈধপথে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আনতে আপনার ব্যাংক কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে?

আবু জাফর : বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক তার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব পোর্টালকে আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি ও উত্তোলন প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বিশেষ পুরস্কার ও উপহার প্রদানের মাধ্যমে প্রবাসীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রামীণ পর্যায়ে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি সহজলভ্য করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : আপনারা রেমিটারদের কি বিশেষ কোনো সুবিধা দেন?

আবু জাফর : রেমিটারদের জন্য আমরা আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক এক্সচেঞ্জ রেট প্রদান করি। সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে রেমিট্যান্স গ্রহীতাদের জন্য বিশেষ সঞ্চয় স্কিম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা বাড়তি মুনাফা পেতে পারেন। দ্রুত টাকা প্রেরণ নিশ্চিত করতে আমরা অত্যাধুনিক রেমিট্যান্স ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করছি।

দেশ রূপান্তর : রেমিট্যান্সে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়, সেটি কি অব্যাহত থাকা উচিত? হলে কেন?

আবু জাফর : রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অবশ্যই অব্যাহত রাখা উচিত। কারণ এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়, যা আমদানি ও ঋণ পরিশোধে সহায়তা করে। তাছাড়া প্রণোদনা প্রবাসীদের বৈধপথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত করে, ফলে অপ্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার কমে এবং অর্থপাচার হ্রাস পায়।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান বাড়াতে আপনার পরামর্শ কী?

আবু জাফর : রেমিট্যান্সের অবদান আরও বাড়াতে ব্লকচেইন বা ফিনটেকের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেনদেনের খরচ কমানো যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ স্কিম চালু করে রেমিট্যান্সের অর্থকে শেয়ারবাজার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) ও স্টার্টআপ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

দেশ রূপান্তর : রেমিট্যান্সের বেশিরভাগ অর্থ ভোগবিলাসে ব্যয় হয় বলে বিবিএসের এক জরিপে জানা যায়। এই অর্থ বিনিয়োগে কাজে লাগানোর জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

আবু জাফর : রেমিট্যান্সের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে প্রবাসীদের জন্য সেমিনার ও ওয়েবিনারের আয়োজন করা যেতে পারে। বিশেষ করে কৃষি ও এসএমই খাতের গুরুত্ব তুলে ধরা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ইসলামিক সুকুক বন্ড বা মাইক্রোফাইন্যান্স স্কিমের মতো বিনিয়োগমুখী ব্যাংকিং পণ্য চালু করা যেতে পারে।

দেশ রূপান্তর : আপনাদের ব্যাংকে রেমিট্যান্স প্রেরক ও গ্রহীতাদের জন্য বিশেষ কোনো সেবাপণ্য চালু আছে?

প্রবাসীদের জন্য আমরা বিশেষ মুনাফার ইসলামিক আমানত (মুদারাবা) ভিত্তিক প্রবাসী সঞ্চয় স্কিম অফার করি। তাদের জন্য একটি ডেডিকেটেড হেল্প ডেস্ক ও ২৪/৭ কাস্টমার কেয়ার হেল্পলাইন চালু রয়েছে, যা দ্রুত সেবা প্রদানে সহায়তা করছে।

দেশ রূপান্তর :  বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়াতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?

আবু জাফর : বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়াতে সরকারের প্রতি আমাদের প্রস্তাব হলো বর্তমান ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা আরও বাড়ানো, অর্থপাচার রোধে কঠোর মনিটরিং ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা এবং এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স জোরদার করে অবৈধ চ্যানেল বন্ধ করা।

দেশ রূপান্তর : বিদেশে আপনাদের এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর ভূমিকা কী?

আবু জাফর : বিদেশে আমাদের ব্যাংকের নিজস্ব কোনো এক্সচেঞ্জ হাউজ বর্তমানে  নেই। আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় সব রেমিট্যান্স হাবে তাদের বিস্তৃত শাখা ও এজেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছে রেমিট্যান্স সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

আবু জাফর :প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে একটি বিশেষ ‘বিনিয়োগ সহায়তা সেল’ গঠন করে তাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। এসএমই ও আবাসন খাতে ইসলামিক বিনিয়োগ সুবিধা যেমন মুরাবাহা বা মুশারাকা-ভিত্তিক ফাইন্যান্সিং-সহজ শর্তে প্রদান করা যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত