শিশুকে পড়ায় আগ্রহী করতে যেভাবে সাহায্য করবেন

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৩:০৯ এএম

শিশুদের মন স্বভাবতই চঞ্চল এবং দীর্ঘ সময় ধরে এক জায়গায় বসে থাকা তাদের জন্য সহজ নয়। পড়াশোনার সময় তারা প্রায়ই মনোযোগ হারিয়ে টিভি বা মোবাইলের দিকে ঝুঁকে যায়। স্কুল থেকে ফিরে হোমওয়ার্ক করতে বসতে চায় না এমন অভিযোগ অনেক বাবা-মাই করেন। জোর করে বা বকাঝকা করলে শিশুর মধ্যে রাগ, কান্না, জেদ দেখা দিতে পারে।

তাই কার্যকর উপায় হলো কৌশলে শিশুকে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করানো। শিশুকে পড়তে বসানোর জন্য পাঁচটি সহজ কৌশল রয়েছে, যা মেনে চললে শিশুর আগ্রহ বাড়ে এবং সে নিজে থেকেই হোমওয়ার্ক শেষ করতে পারে। চলুন, জেনে নিই।

নিয়মিত পড়াশোনার রুটিন তৈরি করুন
শিশুকে পড়ার আগে পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ দিন। স্কুল থেকে ফেরার পর অন্তত এক ঘণ্টা খেলাধুলা বা শরীরচর্চা করতে দিন। এতে দিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং মনোযোগ বাড়ে। স্কুল থেকে ফিরেই পড়তে বসালে শিশু কিছুক্ষণের মধ্যে একঘেয়েমি অনুভব করে এবং মোবাইল বা টিভির দিকে মন দেয়। 

পড়ার বিষয়গুলোকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করুন
শিশুকে মুখস্থ করানোর পরিবর্তে পড়াশোনার বিষয়গুলো বাস্তব জীবনের ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত করে বোঝান। ছোট ছোট গল্প বা ছবি আঁকার মাধ্যমে পড়াশোনা শেখালে শিশু সহজে বোঝে এবং দীর্ঘদিন মনে রাখে। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।

একটানা পড়াশোনার পরিবর্তে বিরতি দিন
একই বিষয় দীর্ঘ সময় পড়ানো ঠিক নয়। উদাহরণস্বরূপ, অঙ্কের হোমওয়ার্ক শেষ করার পরে সঙ্গে সঙ্গে কঠিন অন্য কোনো বিষয়ের বই খুলবেন না। দশ মিনিটের বিরতি দিন এবং সেই সময় শিশুকে ইচ্ছামতো ছবি আঁকতে দিতে পারেন। রঙিন টি-শার্ট বা ফেব্রিক কালার ব্যবহার করে সৃজনশীল কাজ করতে দিন। এতে শিশুর সৃজনশীলতা বাড়ে এবং মোবাইল বা টিভির প্রতি আগ্রহ কমে।

পড়াশোনা যাচাই ও প্রশংসা করুন
শিশু যা পড়ছে, সেটা তাকে আবার বোঝাতে বলুন। প্রয়োজনে লিখে ফেলতে বলুন। লিখলে পড়াশোনা সহজে মনে থাকবে। পড়াশোনা শেষে কোনো প্রলোভন দেখানোর পরিবর্তে শিশুকে যথেষ্ট প্রশংসা করুন। যতটুকু সে পারছে, তাতেই উৎসাহ দিন।

ব্রেন গেম ও সৃজনশীল খেলায় মনোযোগ বাড়ান
পড়াশোনার সময় যদি শিশুকে অস্থির বা ক্লান্ত মনে হয়, তাহলে ব্রেন গেম বা সৃজনশীল খেলায় শিশুর মনোযোগ সরান। বিল্ডিং ব্লকস, পাজল বা অন্যান্য শিশুবান্ধব খেলাগুলো স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে দারুণ কাজ করে। এতে ক্লান্তি দূর হয় এবং একঘেয়েমি কাটে।

সূত্র : আনন্দবাজার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত