নদীর তীর কেটে মাটি নিচ্ছে ইটভাটা, হুমকিতে বাঁধ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৫ এএম

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকি এলাকায় বিষখালী নদীর তীর থেকে দেদারসে মাটি কেটে নিচ্ছেন স্থানীয় ইটভাটার মালিকরা। এতে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির তথ্যানুযায়ী, বরগুনায় প্রায় ৬৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ভাটার অনুমোদন নেই। আর অধিকাংশ ইটভাটা নদী তীরবর্তী এলাকায় হওয়ায় ভাটা মালিকরা নদীর চর থেকে মাটি কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাস ধরে পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকি ও কাকচিড়া এলাকায় ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আরএসবির দুটি ইটভাটা ও আল মামুন এন্টারপ্রাইজের দুটি ইটভাটায় ভেকু মেশিন দিয়ে নদীর তীরের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকি এলাকার ফেরিঘাট সংলগ্ন ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আরএসবির একটি বার্জে করে বেড়িবাঁধ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ ফুট দূরের নদীতীরের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটা বন্ধ রাখে ভাটা কর্তৃপক্ষ। বেড়িবাঁধের এত কাছ থেকে মাটি কাটার ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর তীর থেকে মাটি কেটে কিসলু মিয়া তার ইটভাটায় নিচ্ছে। মাটি কাটতে থাকলে শিগগির ভাঙন শুরু হবে। তখন আমাদের মতো গরিব মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলব।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সুজন হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের এলাকাটি এমনিতে ভাঙনকবলিত। ভাটা মালিকরা যদি সেই নদীর পাড়ের জমি কেটেই ইট তৈরি করে তাহলে তো বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হতে আর বেশি সময় লাগবে না।’

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স আল মামুন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. লিটন বলেন, ‘আমরা যে জায়গা থেকে মাটি কাটি, তা আমরা কিনে নিয়েছি। এটি সরকারের জমি নয়।’

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ স¤পাদক ও আরএসবি ইটভাটার মালিক আবদুর রাজ্জাক বলেন, যেখানে মাটি কাটা হচ্ছে সেটি রেকর্ডীয় স¤পত্তি। নদী ভাঙনের ফলে অনেক জমি নদীতে চলে যাওয়ায় অনেকে ভাবছেন, চরের মাটি কাটা হচ্ছে কিন্তু আসলে তা নয়। বিএস খতিয়ান ও দলিল দেখলেই পরিষ্কার হবে এটি রেকর্ডীয় নাকি চরের জমি।

পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, নদীতীরের মাটি কেটে নিয়ে ইট তৈরি করার ফলে একদিকে যেমন ভাঙন দেখা দিচ্ছে অন্যদিকে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে নদীর যে স্বাভাবিক পরিবেশ তা ব্যাহত হবে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মৎস্যসম্পদ। হুমকির মুখে পড়বে পরিবেশ ও প্রতিবেশ। তাই প্রশাসনের এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বরগুনা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘নদীর তীর থেকে মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যদি তীর কেটে মাটি নেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে।’

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। কেউ যদি নদীর চর থেকে মাটি কাটায় জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত