শাহজাদপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৯ এএম

উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের বাঘাবাড়ী প্রধান কার্যালয়ে ভাঙচুরের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাঘাবাড়ী বন্দর এলাকায় ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক  ৫  ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ট্যাংকলরির শ্রমিকরা।

গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ ট্যাংকলরি শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বাঘাবাড়ী বন্দর এলাকায় ট্যাংকলরি শ্রমিকদের অভিযোগ শুনে ন্যায্য বিচারের আশ্বাস দিলে বেলা ১টায়  শ্রমিকরা  অবরোধ  তুলে নেন। এরপর মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

জানা গেছে, উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বাঘাবাড়ী এলাকায় বড়াল নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। গত শনিবার সন্ধ্যার পর উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের বাঘাবাড়ী কার্যালয়ে একটি সালিশে যান বাঘাবাড়ী নৌবন্দর  ইজারাদার ও উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ১০-১৫ জন লোক ছিলেন।

উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি মো. জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এদিন আলোচনায় আনিছুর ও তার লোকজন দাবি করেন নৌকাবাইচ বাঘাবাড়ী নৌবন্দর এলাকায় হবে। তাই সব নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে। প্রধান অতিথি তাদের পছন্দের লোককে রাখতে হবে।

এ সময়  ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান আপত্তি করে বলেন, ‘আপনারা অন্য একটি সালিশের বিষয় নিয়ে এসে নৌকাবাইচের কথা কেন বলছেন। এ কথা শুনে আনিছুর উত্তেজিত হয়ে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা লোকজন চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।’

তবে আনিছুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নৌকাবাইচে আমাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমরা বের হয়ে আসি। আজ (গতকাল রবিবার) সকালে জানতে পারি আমি নাকি ট্যাংকলরি অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করেছি ও চাঁদা চেয়েছি।’

এদিকে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর এলাকায় গতকাল রবিবার গিয়ে দেখা গেছে, বিক্ষুব্ধ  ট্যাংকলরি  শ্রমিকরা  চাঁদাবাজি ও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে মহাসড়কে বিক্ষোভ করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘ট্যাংকলরি শ্রমিকদের অভিযোগ শুনেছি। যারা ট্যাংকলরি শ্রমিক অফিস ভাঙচুর করেছেন তারা তাদের গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন। আমি তাদের থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি।’

তবে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচার না পেলে মহাসড়ক অবরোধ করে সব কিছু অচল করে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত