মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী নদী আজ মৃতপ্রায়। গতকাল শনিবার নদীর বিভিন্ন অংশে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ভরা বর্ষা মৌসুমেও যেখানে নদীর বুক ভরে ওঠার কথা স্রোতের পানিতে, সেখানে এখন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ঘন কচুরিপানার আস্তরণ। দূর থেকে তাকালে মনে হয় নদী নয়, বরং বিস্তৃত সবুজ জমি। ফলে নদীর সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা এবং পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এই নদীতে তিনতলা লঞ্চ, স্টিমার চলত অবাধে। নদীতে ধরা পড়ত রুপালি ইলিশ, বোয়ালসহ নানা দেশীয় মাছ। ধলেশ্বরী শুধু নদী ছিল না, এটি ছিল মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি।
গত কয়েক দশকে এই নদী ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে মানুষের হাতেই। দুই তীর জুড়ে গড়ে উঠেছে কারখানা, ইটভাটা, বসতবাড়ি। বিভিন্ন শিল্পের বিষাক্ত বর্জ্য পাইপ দিয়ে ফেলা হচ্ছে সরাসরি নদীতে। পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর বুক দখল করে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ভাকুম গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ কুদ্দুসুর রহমান বলেন, কচুরিপানা নদীর বুক ঢেকে ফেলেছে, যোগাযোগব্যবস্থা অচল। নদী যদি না বাঁচে, এই অঞ্চলের জীবনও বাঁচবে না। ধলেশ্বরী শুধু নদী নয়, এটি এক সময়ের ঐতিহ্য।
এ বিষয়ে উপজেলার সচেতন নাগরিক আব্দুর রহমান বলেন, নদীটি যদি দ্রুত খননের ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই নদীকে কেবল গল্পে শুনবে।
স্থানীয় জেলে সিদ্দিক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, এই নদী আমাদের সব ছিল। ইলিশ, বোয়াল, পাবদাসহ সব মাছই ছিল এখানে। এখন তিন দিন জাল ফেললেও এক কেজি মাছও পাওয়া যায় না।
স্থানীয় মো. আমিনুর রহমান বলেন, ধলেশ্বরী নদীর সিংগাইর উপজেলার চর দুর্গাপুর ও তার আশপাশের ২-৩ কিলোমিটার এলাকায় সঠিকভাবে খনন করলে পুরো নদী নৌযান চলাচলের জন্য উপযোগী হয়ে যাবে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, যেহেতু বর্ষাকাল তাই নদীতে জমে থাকা কচুরিপানা হয়তো এমনিতেই চলে যাবে। অপসারণে আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই। নদীটি সচল রাখতে আগামীতে খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
