নিষ্প্রভ মেসি বুসকেটসের ঘুসি সুয়ারেজের থুথু

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:১২ এএম

লিওনেল মেসির ৪৭তম শিরোপা হাতে তোলার অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত করে লিগস কাপ জিতেছে সিয়াটল সাউন্ডার্স। ফাইনালে নিজেদের ঘরের মাঠে সিয়াটল ৩-০-তে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামিকে। সিয়াটলের জয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় ম্যাচের শেষ দিকে ঘটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। ম্যাচ শেষে হাতাহাতি-ধাক্কাধাক্কি হয়েছে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে। হাতাহাতির সময় লুইস সুয়ারেজ একজনের গায়ে থুথু মেরেছেন।

এই শিরোপা জয়ে অনন্য এক কীর্তি গড়ল ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) প্রথম দল হিসেবে উত্তর আমেরিকার সব ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল তারা। এর আগে দুটি এমএলএস কাপ, চারটি ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২২ সালের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল দলটি। এবার লিগস কাপ জয়ে ট্রফি ও প্রাইজমানি ছাড়াও সাউন্ডার্সের প্রাপ্তি ২০২৬ কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়া।

সিয়াটল ২৬ মিনিটে এগিয়ে যায়, পল রথরকের ক্রিসে হেডে বল জালে পাঠান ডি রোজারিওর। ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যালেক্স রোলডান। ৮৯ মিনিটে রথরক ব্যবধান ৩-০ করেন। ভুলে যাওয়ার মতো এক ম্যাচ খেললেন মেসি। ৫০ মিনিটে গোলকিপারকে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন মেসি। সুয়ারেজের দারুণভাবে বাড়িয়ে দেওয়া বলটি পোস্টের ওপর দিয়ে মারেন মেসি। ৯০ মিনিট মাঠে থেকে পাঁচটি শট নিয়েছেন মেসি। সবই ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। এমনকি ছয়বার ড্রিবলের চেষ্টা করে সফল হয়েছেন মাত্র একবার।

শেষ বাঁশি বাজার পরই শুরু হয় হাতাহাতি। মাঠে সেই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন রেফারি ও খেলোয়াড়রা। মায়ামির ম্যাক্সি ফ্যালকন সিয়াটলের মিডফিল্ডার ওবেড ভারগাসকে জড়িয়ে ধরেন, এরপর দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অন্যকে ঘুসি মারতে থাকেন! সুয়ারেজও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন সাউন্ডার্সের মিডফিল্ডার ভারগাসের সঙ্গে। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে, তিনি ভারগাসের ঘাড়ে হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। পরে সাউন্ডার্সের খেলোয়াড়রা এসে দুই দলকে আলাদা করেন। এ সময় বুসকেটস ভারগাসকে ঘুসিও মারেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সুয়ারেজ সাউন্ডার্সের নিরাপত্তা পরিচালক জিনে রামিরেজকে উদ্দেশ্য করে থুতু মারেন। সতীর্থ গোলকিপার অস্কার উস্তারি সুয়ারেজকে সেখান থেকে সরিয়ে আনেন।

এই ঘটনার পর তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে এমএলএসে অতীতে থুতু ছোড়ার ঘটনায় একাধিক খেলোয়াড়কে দুই থেকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বুসকেটসসহ আরও একাধিক খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন।

ম্যাচ শেষে মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাশচেরানো হাতাহাতির ঘটনা এবং ম্যাচ নিয়ে বলেন, ‘আমার এ বিষয়ে বেশি কিছু বলার নেই। আমরা কেউই এ ধরনের আচরণ দেখতে চাই না। এ ধরনের ম্যাচে ছোট ছোট বিষয়ই ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়। প্রথম কয়েক মিনিটেই আমরা ম্যাচ থেকে ছিটকে যাই। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে আমরা দারুণ খেলেছি ও কিছু সুযোগ তৈরি করেছি। তবে ৩-০ ব্যবধানটা বেশি। আমরা ঝুঁকি নিয়েছিলাম, আর তাদের দ্বিতীয় গোলই মূলত খেলা শেষ করে দেয়।’

সিয়াটলের ট্রফি উদযাপনের লিওনেল মেসি থাকলেও মায়ামির বাকি খেলোয়াড়রা মাঠে ছিলেন না। সিয়াটলের মাঠ লুমেন ফিল্ডে এ দিন দর্শক ছিল ৬৯ হাজার ৩১৪ জন, ফুটবল ম্যাচে যা এই মাঠের রেকর্ড। লিগস কাপের ম্যাচেও এটি রেকর্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত