শিবির প্যানেল বেছে নেওয়ার কারণ জানালেন মেঘলা 

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৫৮ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের প্রার্থী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক পরিকল্পনা, নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যা এবং নেতৃত্বসংক্রান্ত ভাবনা নিয়ে তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন।

কেন শিবির সমর্থিত প্যানেল বেছে নিলেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে মেঘলা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে তিন বছর সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা এবং এক বছর অ্যাক্টিভিজম করার সময় আমার সঙ্গে একাধিক সংগঠন যোগাযোগ করেছে। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ায় আমি মনে করেছি, শিবির সমর্থিত প্যানেলে গেলে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে পারব। তাই এই প্যানেলে অংশ নিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সর্বশেষ সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের সদস্য এবং যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি।’

নারী শিক্ষার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মেঘলা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী নারী হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে নেতৃত্ব প্রদানের অনীহা লক্ষ্য করা যায়। মূল কারণ হলো সাইবার বুলিং। আমি নিজেও বারবার এর শিকার হয়েছি। তাই বুঝি বিষয়টি কতটা প্রভাব ফেলে।’

তিনি যোগ করেন, ‘বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নবিরোধী একটি সেল আছে। আমরা এমন একটি সেল তৈরি করতে চাই যেখানে কেউ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে অভিযোগ জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পারবে।’

নির্বাচিত হলে তিনি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নানা উদ্যোগ নেবেন। মেঘলা বলেন, ‘প্রথমে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। সম্প্রতি ছাত্রী হলে চুরি, বহিরাগত প্রবেশ এবং ক্যাম্পাসের মধ্যে হেনস্তার ঘটনা ঘটছে। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ চালু করার পরিকল্পনা আছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রী মা আছেন। পড়াশোনা এবং মাতৃত্বের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না—এজন্য এটি তৈরি করা হবে। এছাড়া ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারও থাকবে, যাতে ছাত্রী মা নিরাপদে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন।’

মেঘলা জানান, ‘আমি কেবল একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হতে চাইনি। আমি সব ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও মতাদর্শের শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি হয়ে উঠতে চাই। জাকসুতে বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষার্থী একত্র হয়ে কাজ করবে। সবার প্রচেষ্টা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত