টানা দুইদিন বন্ধ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) কারখানাগুলো। তবে পরচুলা তৈরির কারখানা এভারগ্রিন লিমিটেড চালু হবে আগামী শনিবার । গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলোচনা শেষে বেপজা কর্র্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গতকাল বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ইপিজেডের বেপজা অফিসের হলরুমে অনুষ্ঠিত শ্রমিক, কারখানা মালিক, বেপজা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার আলোচনা হয়। কারখানা মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ায় আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে খুলছে ইপিজেড।
ওই আলোচনায় অংশ নেওয়া জেলা বিএনপির সদস্য আইনজীবী আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা জামায়াতের নায়েমে আমির, ড. খায়রুল আনাম, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ। আলোচনা শেষে রাত পৌনে ৮টার দিকে তারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইপিজেডের সকল কারখানা খুলে যাবে। শুধু এভারগ্রিন কারখানার কিছু প্রস্তুতিজনিত কারণে আগামী শনিবার খুলবে।’
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুধবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, কারখানা মালিক, বেপজা কর্র্তৃপক্ষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা হয়। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বেশির ভাগ কারখানা মালিকরা মেনে নিয়েছেন। এ কারণে বৃহস্পতিবার থেকে সব কারখানা খুলবে।’
তিনি জানান, ‘এভারগ্রিনের বেপজার সঙ্গে কিছু চুক্তি হবে। এ কারণে এভারগ্রিন কাল খুলবে না। তবে শনিবার থেকে তারা কারখানা খুলবে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্তে বেপজার পক্ষ থেকে ৪ সদস্যের কমিটি হয়েছে।
উত্তরা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ যে, উক্ত ইপিজেডে এভারগ্রিন কারখানা কর্র্তৃপক্ষ সম্প্রতি ৫১ জন শ্রমিক ছাঁটাই করে। গত তিন দিন ধরে ওই শ্রমিকরা ২৩ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন। এমন অবস্থায় গত সোমবার গভীর রাতে এভারগ্রিন কর্র্তৃপক্ষ পুরো কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। তার প্রতিবাদসহ অন্য দাবিতে ওই কারখানার প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার শ্রমিক ওইদিন ইপিজেডের প্রধান ফটকে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালালে হাবিব ইসলাম নামের এক শ্রমিক নিহত ও অন্তত ২৪ জন আহত হন। এতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে ইপিজেডের সব কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ২৪টি শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকে। ইপিজেড এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে দুই প্লাটুন করে বিজিবি, পুলিশ ও সেনা মোতায়েন রাখা হয়। বন্ধ রাখা হয় ইপিজেডের মূল ফটক।
এদিকে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহত শ্রমিকের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়।
নীলফামারী সদর থানার ওসি এম আর সাঈদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রক্রিয়া চলমান আছে।
২০০১ সালে নীলফামারীর সদরের সংগলশী এলাকায় ২১৩.৬৬ একর এলাকার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা উত্তরাঞ্চল (উত্তরা ইপিজেড)। বর্তমানে এখানে ২৪টি দেশি-বিদেশি কারখানা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। যেখানে নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ৬৫ হাজারের ওপর কমর্চারী-শ্রমিক কাজ করেন।
