জামায়াতের এমপি প্রার্থী

আমরা জমিদার, জমিদারের ওপর হস্তক্ষেপ মেনে নেব না

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৫১ পিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। ওই নেতার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর, এ এফ রহমান হল ও শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের সামনে জড়ো হয়ে তারা এই বিক্ষোভ করে। এদিকে, জামায়াত নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামে এক মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম বিতর্কিত এক বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার, জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা আমরা মেনে নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বুকের ওপর। আমরা এই জায়গার মালিক, তাই অন্যায় কিছু মেনে নেব না। আমাদের সম্মান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের যথাযথ সম্মান না করে, তবে আমরা জনগণ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি এসব কথা বলেন। ভিডিওটি শুক্রবার রাতে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দুঃখ প্রকাশ করেছেন জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, আমার বক্তব্যের কিছু অংশ অনেকের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। আমার শব্দচয়নে কিছুটা ভুল হতে পারে, তবে আমার উদ্দেশ্য এমনটি ছিল না।

তিনি আরও বলেন, আমি গত ১৬ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেছি। শিক্ষার্থীরা জানে আমি তাদের কী পরিমাণ স্নেহ করি। আহত ছাত্রদের খোঁজখবর নিয়েছি, সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছি। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।

ওই মতবিনিময় সভায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অফিস সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ভুল-বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত সন্ত্রাসীরা এ এলাকার নয়, বাইরে থেকে এসেছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

তবে, বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা এসেছে বলে গ্রামের সবাইকে দায়মুক্তি দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের রক্তের সাথে বেইমানি বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

অন্যদিকে, জামায়াত নেতার এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাখান করে শিবির নেতার বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ঘটনা থেকে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। একজন ছাত্রী ভাড়া বাসায় দেরিতে ঢুকতে চাইলে দারোয়ান তাঁর গায়ে হাত তোলেন। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং তা গ্রামবাসীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ আহত হন প্রায় ৪২১ জন। এখনও দুই শিক্ষার্থী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত