রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা ও কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানোর ঘটনায় নতুন করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছেন মানিকগঞ্জের ইমাম মো. আবদুল লতিফ (৩৫)। যার বিরুদ্ধে লাশ উত্তোলনের নির্দেশদাতার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার হাজি গনি শিকদারপাড়ার মো. আসলাম শেখ (২৬), গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অভি ম-ল রঞ্জু (২৯), একই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাগর ফকির (২১)।
গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, এ মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার আসামি অপু কাজী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে লতিফের নাম প্রকাশ করেন। ওই জবানবন্দিতে বলা হয়, লতিফ ইমামের নির্দেশেই নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তোলা হয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মানিকগঞ্জে অভিযান চালিয়ে লতিফসহ আরও তিনজনকে আটক করে। এদিকে হামলায় নিহত রাসেল মোল্লার বাবা আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে গোয়ালন্দ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজ শেষে ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ডাকা বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে, পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা চালায়। পরে দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি কবর থেকে উত্তোলিত নুরাল পাগলার মরদেহ মহাসড়কের পদ্মার মোড়ে এনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয় এবং নিহত হন দরবারের ভক্ত রাসেল মোল্লা।
