জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যমুনা অভিমুখী মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাত্রা শুরু করেন। প্রেস ক্লাব এলাকায় আন্দোলন শুরু হলে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। শিক্ষকরা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এর পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও জলকামানের পানি ছিটিয়ে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গতকাল সন্ধ্যায় ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ‘রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান নেওয়ায় শিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের নেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। এ সময় তারা লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। আমাদের ১০-১২ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয়করণ বঞ্চিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই কর্মসূচি চলছিল। আমরা জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণ চাই।’
শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, ‘দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে শিক্ষকদের সাতজনের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে আসে। পরে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।’
জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটির সুপারিশে পাঁচ হাজার বিদ্যালয়ের জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল সকাল থেকে শিক্ষকরা প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন শুরু করেন। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে প্রায় এক হাজার শিক্ষক এই আন্দোলনে অংশ নেন। শিক্ষকরা জানান, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সারা দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় ২৬ হাজার ১৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করা হলেও কিছু বিদ্যালয় বাদ পড়ে যায়।
