ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শনিবার বলেছেন, কোনো বিদেশি চাপ বা বাধা ইরানের উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি জনগণ কখনো অতিরিক্ত দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।
শনিবার ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক সায়েন্স অলিম্পিয়াডের পদকজয়ীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের শুক্রবারের ইরানবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তিনি বহুবার দেখেছেন কিছু শক্তিধর দেশ ইরানের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, কিন্তু মন আর চিন্তাধারা যখন বাধার মুখে পড়ে, তখন হয় পথ খুঁজে নেয়, নয়তো নতুন পথ সৃষ্টি করে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি হলো আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্প। অপদার্থরা আমাদের পথ আটকে দিতে পারবে না। যাদের অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা, সংকল্প ও সামর্থ্য আছে, তাদের কেউ থামাতে পারবে না। আমরা কখনো কারও দমননীতির কাছে নতি স্বীকার করিনি, আর করবও না, কারণ পরিবর্তন আনার ক্ষমতা আমাদের আছে।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের প্রকৃত সম্পদ তেল, গ্যাস বা সোনার খনিতে নয়, বরং তার সৃজনশীল ও মেধাবী তরুণদের মাঝে নিহিত।
তিনি বলেন, আমরা যদি উদ্ভাবনী মানুষদের ক্ষমতায়ন করি এবং তাদের জন্য পথ সুগম করি, তবে তারা আমাদের সব সমস্যা সমাধান করতে পারবে। প্রকৃত বাধা হলো ভুল মানসিকতা। শত্রুরা আমাদের বৈজ্ঞানিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারে, কিন্তু এগুলো গড়ে তুলেছে আমাদেরই বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত নেয় যা ছিল প্রস্তাবিত ২২৩১ নম্বর রেজুলেশনের অধীনে। এরপরই এই বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
প্রস্তাবটি বাতিল হয় শুক্রবার ৪-৯ ভোটে। অর্থাৎ, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর হবে। রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও আলজেরিয়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ঠেকাতে ভোট দেয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সিয়েরা লিওন, স্লোভেনিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস, পানামা ও সোমালিয়া – মোট ৯ দেশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিপক্ষে ভোট দেয়। গায়ানা ও দক্ষিণ কোরিয়া ভোট থেকে বিরত থাকে।
