জরাজীর্ণ মাটির ঘরে কষ্টে দিন কাটছে বিধবা ফিরোজা বেগমের। টিউবওয়েল-শৌচাগার নেই, বয়স্ক ভাতাও পান না। নেই খাবারের নিশ্চয়তাও। জীবনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকাই যেন বোঝা!
চলৎশক্তিহীন ফিরোজা বেগম টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আবু তালেব মিয়ার স্ত্রী। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিন বৃদ্ধার বাড়ি গিয়ে দেখা যায় তার যাপিত জীবনের এক করুণ চিত্র।
৭৩ বছর বয়সী ফিরোজা বেগমের জীবন যেন কষ্টের শোকগাথা। জরাজীর্ণ মাটির ঘরে দুঃসহ দিন কাটছে। নেই টিউবওয়েল, নেই শৌচাগার, নেই বয়স্ক ভাতার সুবিধা। এমনকি তিন বেলা খাবারেরও নিশ্চয়তা নেই তার জীবনে।
ফিরোজা বেগমের ঘরটির অবস্থা একেবারেই নাজুক। চারপাশের মাটির বেড়া হেলে পড়েছে, যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। চালে মরিচাধরা পুরনো টিন, যেখানে অসংখ্য ছিদ্র ও ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ে। রাতে একটি পুরনো জলচৌকিতেই ঘুমাতে হয় তাকে। ঝড়-বৃষ্টি একসাথে হলে ওই ঘরে থাকা আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অসহায় বৃদ্ধা। তিনি বলেন, কোনো দয়ালু মানুষ যদি আমারে একটা ঘর বানাইয়া দিত আর একটা টিউবওয়েল বসাইয়া দিত, আমি সারাজীবন নামাজ পড়ে তার জন্য দোয়া করতাম। রাতে যদি একটু শান্তিতে নামাজ পড়তে আর ঘুমাতে পারতাম, তবে সব দুঃখ ভুলে যাইতাম।
ফিরোজা বেগমের স্বামী আবু তালেব মিয়া মারা গেছেন ২০ বছর আগে। তিন ছেলেই সংসার নিয়ে টানাপোড়েনে আছেন। তাই মায়ের জন্য ঘর নির্মাণ বা সহযোগিতা করার সামর্থ্য নেই তাদের। জমিজমা না থাকায় অন্যের শৌচাগারে যেতে হয় তাকে। এরই মধ্যে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ।
গ্রামের সাধারণ মানুষ বলছেন, অবিলম্বে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ফিরোজা বেগমকে একটি ঘর, টিউবওয়েল ও বয়স্ক ভাতার আওতায় আনতে হবে। না হলে এই অসহায় বৃদ্ধার মানবেতর জীবনযাত্রা চলতেই থাকবে। প্রতিবেশী মিনা বেগম ও নার্গিস আক্তার জানান, ফিরোজা বেগমের দুর্দশা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। কোনো সরকারি সহায়তা তিনি এখনো পাননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে নজরে এসেছে। শিগগিরই তার জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
