বাংলাদেশে পুশইন করা অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ দুই পরিবারের ছয়জনকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ফেরত আনতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কলকাতার হাইকোর্ট। গত শুক্রবার পরিবার দুটির সদস্যদের রিট পিটিশনের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের একটি ডিভিশন বেঞ্চ। বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো এ ছয়জন কলকাতার বীরভূমের বাসিন্দা এবং ভারতীয় নাগরিক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বদু শেখ তার মেয়ে সোনালী খাতুন, তার মেয়ের জামাই দানিশ শেখ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক নাতিকে ফেরত আনার দাবিতে আদালতে পিটিশন করেন। অন্যদিকে আমির খান তার বোন সুইটি বিবি, তার ছেলে কুরবান শেখ এবং ইমাম দেওয়ানকে ফেরত আনার দাবিতে পিটিশন করেন।
উভয় মামলাতেই আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ২ মে ২০২৫ তারিখের স্মারকলিপির (মেমো) পদ্ধতিগত নিয়মগুলো মানা হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের নাগরিকত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি, তবে এই বিষয়ে জোর দিয়েছেন যে আইনানুগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। দুটি পিটিশনের ক্ষেত্রেই হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাসন (দেশ থেকে বের করে দেওয়া) দেওয়ার জন্য যে প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তাতে এই সন্দেহ জাগে যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খুব তাড়াহুড়ো করেছেন এবং ভারত থেকে বিতাড়ন করার প্রক্রিয়া স্মারকলিপির বিধানগুলো স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্দেশ মুলতবি রাখার আবেদন করে। তবে হাইকোর্ট সেই আবেদনও খারিজ করে দেয়।
হাইকোর্টের বেঞ্চ মন্তব্য করেছেন, আমরা ওই সব ব্যক্তিকে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা আমরা বলে দিয়েছি। সরকারকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বেঞ্চ আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিকের তকমা দেওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনাও করেছেন। আগের এক শুনানিতে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি হলফনামা দাখিল করে জানাতে বলেছিলেন, পরিবারগুলোকে কীভাবে এবং কোন জায়গা থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার সেই হলফনামা জমা দিয়েছিল। সোনালিদের আইনজীবী আদালতকে তাদের বাড়ির দলিলসহ অন্য কাগজপত্রও জমা দেন। বীরভূমের সোনালি বিবি কর্মসূত্রে দিল্লির রোহিণীতে থাকতেন। সেখানে পরিচারিকার কাজ করতেন সোনালি। ১৮ জুন বাংলাদেশি সন্দেহে তাকে আটক করে কে এন কাটজু মার্গ থানার পুলিশ। স্বামী, পুত্রসহ সোনালিকে এবং আরও কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়ে। সেখানে তাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের পুলিশ।
