একক প্রার্থী নিয়ে সুসংহত জামায়াত এখনো দোলাচলে বিএনপি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২৬ এএম

আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন থেকে স্পষ্ট ঘোষণার পর চট্টগ্রামে নির্বাচনী উত্তেজনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচি শুরু করেছেন। তবে বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে থাকায় দলের সাধারণ কর্মীরা কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী আগেভাগে একক প্রার্থী ঘোষণা করায় তাদের প্রার্থী ও কর্মীসমর্থকরা প্রচারণা ও গণসংযোগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। মূল দলের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও একযোগে জামায়াতের প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবুর রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিতে প্রতিটি আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকা স্বাভাবিক। এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’ তবে তিনি জানান, প্রতিটি আসনে ঐক্যবদ্ধভাবে দল থেকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সব নেতাকর্মী সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-হালিশহর) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত সপ্তাহে তার নির্বাচনী এলাকার হালিশহর, বড়পুল, কে ব্লকসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, ধানের শীষ ও বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আলহাজ এরশাদ উল্লাহকে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানও একই আসনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। এই দুই নেতাই পূর্বে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ডা. শাহাদাত এই আসন থেকে দুইবার বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করেছেন।

বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের পুত্র সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাঁচলাইশ) আসনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

নগরীর বাইরের আসনগুলোতেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছানোর চেষ্টা করছেন। তবে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার অপেক্ষায় থাকায় সাধারণ নেতাকর্মীরা এখনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। 

অন্যদিকে, নির্বাচন নিয়ে দেশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দোলাচল থাকলেও জামায়াতে ইসলামী চলতি বছরের শুরুতেই চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ফলে দলীয় কর্মীদের একক সমর্থন নিয়ে জামায়াতের প্রার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ গোছানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এ কে এম ফজলুল হককে, যিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি সাংগঠনিক কর্মসূচির পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। শুক্রবার তার পক্ষ থেকে বাকলিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়, যেখানে শত শত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছেন। ডা. ফজলুল হক নিজেও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাঁচলাইশ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী নিয়মিত উঠান বৈঠক করে যাচ্ছেন এবং এই আসনে তিনি সবচেয়ে সক্রিয়। চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. আবু নাছের, যিনি ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের শরবত খাইয়ে আলোচিত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-হালিশহর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী শফিউল আলম, যিনি সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর, নিয়মিত গণসংযোগ ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। নগরীর বাইরের ১২টি আসনেও জামায়াতের প্রার্থীরা নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন। 

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। এখানে প্রত্যেককে দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে হয়। চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার আসনগুলোতে দল থেকে ঘোষিত প্রার্থীদের জয়ী করতে দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একযোগে রাতদিন কাজ করছেন। দায়িত্বশীলরা প্রতিদিন প্রার্থীদের পক্ষে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সিনিয়র নেতারাও এতে যোগ দিচ্ছেন। প্রতিটি আসনে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন। 

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে মোট সংসদীয় আসন ১৬টি। এর মধ্যে মহানগরীতে তিনটি পূর্ণ ও একটি আংশিক এবং জেলায় ১২টি আসন রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত