নড়াইলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০৩ এএম

নড়াইলের লোহাগড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মধুমতি নদীতে প্রাণবন্ত পরিবেশে হলো গ্রাম বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের শিয়রবর মধুমতি নদীতে আয়োজন করা হয় এই বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতা।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। নদীর তীর জুড়ে জমায়েত হয় হাজার হাজার মানুষ। হাজারো দর্শক নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেন এবং নৌকা বাইচের অনবদ্য আনন্দ উপভোগ করেন। শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই যেন ফিরে যান শেকড়ের সেই আনন্দঘন গ্রামীণ উৎসবে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনব্যাপী কাটান নদীর পাড়ের আনন্দময় পরিবেশে।

এ প্রতিযোগিতা দেখতে দুপুর থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করে। শুরুর আগেই নদীর দুই পাড় কানায় কানায় ভরে যায় দর্শনার্থীতে। পুরো বাইচ উপভোগ করার জন্য অনেক দর্শনার্থী ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চড়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শিশু, নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণির দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেন।

এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় নড়াইল জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চারটি নৌকা। প্রতিটি দলে ছিল ৩০-৪০ জন মাঝি জারা সমম্বিলতভাবে নৌকা চালিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। নৌকা বাইচের সঙ্গে গ্রামীণ মেলার আয়োজনও ছিল। মেলায় ছিল হাওয়াই মিঠাই, মাটির তৈরি পুতুল, খেলনার দোকান, পিঠা-পুলি, বাঁশি ও ঢোলের মধুর সুর।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, নৌকাবাইচ আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের শেকড়, সংস্কৃতি ও মানুষের সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। এই আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাংলার শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আমার প্রত্যাশা।

গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন বিশেষ বিশেষ সময়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা উচিত, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো প্রতিযোগিতা দেখতে এসেছিলেন তিনি। পরিবারের সবাইকে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখিয়েছেন এবং পরিবারের সবাই অনেক আনন্দ করেছেন বলেও জানান। শিশু দর্শনার্থী সাইমন জানায়, এবারই প্রথম কোনো নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখলাম। অনেক মজা পেয়েছি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখে। নৌকায় চড়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখার আনন্দই আলাদা। এর আগে কোনো প্রতিযোগিতা দেখে এত আনন্দ কখনো হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত