প্রকৌশলী নুরুল করিম
চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
দেশ রূপান্তর : এবারের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। আপনি তা কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
প্রকৌশলী নুরুল করিম : মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার আগে তা নিয়ে যত আলোচনা-সমালোচনা হবে, তা অবশ্যই পজিটিভ। এতে সংযোজন ও বিয়োজন করার সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে এবার আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এই মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে মিটিং করেছি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গেও বসেছি। সবার মতামত নিয়ে পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গতিশীল নগরী গড়তে আমরা বদ্ধ পরিকর। চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রবন্দর ও ভূপ্রকৃতিকে ব্যবহার করে আমরা একটি টেকসই নগর গড়ে তোলতে চাই।
দেশ রূপান্তর : কিন্তু প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী বাস্তবে উন্নয়ন হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানেও কি আমরা তাই দেখব?
প্রকৌশলী নুরুল করিম : এবারের মাস্টারপ্ল্যানে আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক উপকরণ (ড্রোন ও স্যাটেলাইট সার্ভে) ব্যবহার করেছি। আর তা করতে গিয়ে প্লট টু প্লট সার্ভে করা হয়েছে। এতে ভূমির প্রতিটি ইঞ্চিকে কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে। জুতসই পরিকল্পনা নেওয়ার পরও সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনস্বার্থে কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়। তখন হয়তো অনেক ক্ষেত্রে মাস্টারপ্ল্যানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়। তবে আমার অনুরোধ থাকবে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও নগরবাসীর কাছে যাতে তারা এই মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে। এ ছাড়া এই নগরকে আরও গতিশীল করতে আমরা ফুটওভার ব্রিজ, সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও নতুন কিছু প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে।
দেশ রূপান্তর : পাহাড়ে বহুতল ভবন নির্মাণ কিংবা নদী ও সাগরের তীরে পর্যটনশিল্পের জন্য ভূমি বরাদ্দের বিষয়টি অনেকে উত্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
প্রকৌশলী নুরুল করিম : এবারের মাস্টারপ্ল্যানে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নদীর দুই তীরে সিডিএ বিনোদন পার্ক গড়ে তুলবে। এ ছাড়া অভিজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতিরা মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে গাইডলাইন দেবে। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সমৃদ্ধ নগরী গড়ে তোলা হবে। চট্টগ্রাম হবে একটি টেকসই, স্থিতিশীল ও বাসযোগ্য নগরী।
দেশ রূপান্তর : মাস্টারপ্ল্যান মনিটরিংয়ে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো দক্ষ জনবল থাকা। এ বিষয়ে সিডিএর পরিকল্পনা কী?
প্রকৌশলী নুরুল করিম : অবশ্যই দক্ষ জনবলের অভাবে কাজ করতে সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। তবে এই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে যে টিম কাজ করছে, আমরা চেষ্টা করব এই টিমকে আমাদের সঙ্গে রেখে দিতে। তাহলে মাস্টারপ্ল্যানের গাইডলাইনগুলো বাস্তবায়নে সহজতর হবে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন পর সিডিএতে বেশ কিছু জনবল নিয়োগের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব জনবল নিয়োগ দেওয়া গেলে চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগী নগরী হিসেবে গড়ে তোলতে সহায়ক হবে।
