যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধের অবসান পরিকল্পনা নিয়ে মিশরে পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। মিশরের পর্যটন শহর শারম এল শেখ-এ চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, সোমাবর (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গুলিতে নিহত হয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে ৩ জন নিহত হন খাদ্য ও ত্রাণ নিতে গিয়ে।
গত সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন একটি পরিকল্পনা পেশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প এই পরিকল্পনা পেশের পরপরই সেটিকে সমর্থন জানায় ইসরায়েল। পরে ৩ অক্টোবর সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসও।
উভয়পক্ষ সম্মতি জানানোর পর ৪ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা-বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানান ট্রাম্প। নেতানিয়াহু সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামলা বন্ধ করতে আইডিএফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু গাজার সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প হামলা-বোমাবর্ষণের নির্দেশ প্রদানের পরেও গাজায় গত তিন দিনে নিহত হয়েছেন ১০৪ জন। তাদের সবাই নিহত হন ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে।
ইসরায়েলের সরকারের মুখপাত্র শোশ বেদ্রোসিয়ান অবশ্য এক ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা-হত্যার সাফাই দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প আহ্বান জানানোর পর থেকে গাজায় ‘রক্ষণাত্মক’ অভিযান পরিচালনা করছে ইসরায়েল।
এদিকে এক প্রতিবেদনে মিশরের দৈনিক আল কাহেরা নিউজ জানায়, সোমবার মিশরের পর্যটন শহর শারম এল শেখ- এ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু হয়েছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর ও হামাসের প্রতিনিধিদের। মিশরের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার ছিল বৈঠকের প্রথম সেশন বা পর্যায় এবং এ পর্যায়ে গাজার অবশিষ্ট ইসরায়েলি জিম্মি এবং ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি সংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
