মেসির উদাহরণ টেনে দেশপ্রেমের পাঠ দিলেন ব্রায়ান লারা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০১:০১ পিএম

একসময়ের প্রবল পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট এখন ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে ব্যস্ত। জাতীয় দলের প্রতি আগ্রহ নেই। ক্যারিবিয়ান মহাতারকা ব্রায়ান লারা এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট হারের পর দলীয় কাঠামো, অর্থসংকট ও খেলার মান নিয়ে লারা বলেন- ‘খেলোয়াড়দের হৃদয়ে কি এখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আছে?’

মুম্বাইয়ে একটি ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে লারা বলেন, ‘আমি জানি, আমাদের দেশে অর্থের অভাব আছে, অবকাঠামো দুর্বল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— খেলোয়াড়রা কি সত্যিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলতে চায়? আমরা ৩০-৪০ বছর আগেও ভালো অবকাঠামো পাইনি, তবুও ভিভ রিচার্ডসদের মতো কিংবদন্তিরা দেশের জন্য লড়েছেন। তাদের মধ্যে ছিল ভিন্নরকম এক আবেগ।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সোনালী অতীতের স্মৃতিচারণ করে ‘প্রিন্স অব ত্রিনিদাদ’ খ্যাত এই সুপারস্টার আরও বলেন, ‘তখনকার দিনে প্রতিটি ক্যারিবীয় পরিবারই চাইত তাদের সন্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলুক। এখনকার তরুণদেরও সেই ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনতে হবে।’

তবে লারা শুধু খেলোয়াড়দেরই দায়ী করেননি, দায় দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডেরও, ‘আমি কোনো খেলোয়াড়কে দোষ দিতে পারি না যদি সে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলতে চায়। কারণ জাতীয় দলের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের অর্থনৈতিক পার্থক্য অনেক বেশি। বোর্ডকেও ভাবতে হবে— কীভাবে এমন ব্যবস্থা করা যায় যাতে দেশের হয়ে খেলতে ক্রিকেটাররা আকর্ষণ বোধ করে।’

ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘যদি আপনি আর্জেন্টিনার দিকে তাকান, মেসি ইউরোপে বড় হয়েছেন, কিন্তু তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেন। একইসাথে তিনি বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে খেলেছেন এবং তাকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আরও অনেক দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলার আছেন যারা ইউরোপে খেলেও দেশের হয়ে দায়িত্ব পালন করেন, এবং এটা নিয়ে তারা গর্বিত।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন লারা। বর্তমানে দলের কোনো ব্যাটারেরই টেস্ট গড় ৩০-এর ওপরে নয়। লারার মতে, তরুণদের আরও সময় দেওয়া উচিত এবং অভিজ্ঞদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে, ‘আমাদের অনেক তরুণ খেলোয়াড় এখনো পরিপক্ব হয়নি। কেউ কেউ দেরিতে পরিণত হয়, যেমন গ্রাহাম গুচ, গিলক্রিস্ট বা মাইক হাসি। তারা ৩০ পেরিয়েই সেরা হয়েছে। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করে পরেই আন্তর্জাতিক দলে নেওয়া উচিত।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ে টেস্ট দলে ঢুকতে হলে রেকর্ড ভাঙতে হতো, তাহলে দুই বছর পানি টানার পর সুযোগ মিলত। সেই সময়টায় একজন খেলোয়াড় পরিণত হয়ে উঠত। এখন সেই ধৈর্যটা ফিরিয়ে আনা দরকার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত