আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) প্রধান নূর ওয়ালি মেসুদের গাড়ি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিটিপিপ্রধান নূর ওয়ালি মেসুদ ও ক্বারী সাইফুল্লাহ মেসুদসহ তার কয়েকজন সহযোগীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাইফুল্লাহ মেসুদকে টিটিপির পরবর্তী প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলার সময় গাড়িতে করে প্রকাশ্যে যাচ্ছিলেন নূর ওয়ালি মেসুদ। টিটিপি পাকিস্তানে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী দল। তাদের প্রধান নেতা নূর ওয়ালি পাকিস্তানে সবচেয়ে বড় ওয়ান্টেড ব্যক্তি। কাবুলের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা দুটি বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এরপর বিমান আকাশে আবারও চক্কর দিতে থাকে। এতে করে আরও হামলার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাফকত আলী খান গত মাসের শেষের দিকে বলেছিলেন, আফগানিস্তান ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। আমরা ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। তবে মূল প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, সেখানে (আফগানিস্তানে) সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর বার্তা খুব স্পষ্ট কাবুলকে পাকিস্তান বা টিটিপি ঠিক করে নিতে হবে। পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের আরও কিছু অঞ্চল থেকে সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিতা প্রদেশের একটি বাজারে হামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পাকিস্তানের এ হামলার নিন্দা জানান। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের এ হামলা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিস্ফোরণ ও সম্ভাব্য বিমান হামলার তথ্য নিশ্চিত করে স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তান হামলার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা নিশ্চিতও করেনি, আবার প্রত্যাখানও করেনি। সামরিক বাহিনীর ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী শুক্রবার পেশোয়ারে কর্পস সদও দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে কাবুলে হামলা নিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান তার দেশের নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়, ফলে প্রয়োজন হলে তাদের জীবন রক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে।
