ফ্রান্সে টানা রাজনৈতিক নাটক ও অস্থিরতার পর আবার সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। মাত্র চার দিন আগে তিনি এই পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। গত শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ এলিসি প্রাসাদে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন। তবে বৈঠকে চরম ডানপন্থি ও চরম বামপন্থি দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
লেকর্নুর প্রত্যাবর্তন অনেকের কাছে বিস্ময়কর। কারণ মাত্র দুদিন আগেই তিনি জাতীয় টেলিভিশনে বলেছিলেন, ‘আমি এই পদটির পেছনে ছুটছি না, আমার দায়িত্ব শেষ। তবে এবার তার হাতে সময় খুবই কম। আগামী সোমবারের মধ্যেই তাকে সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে হবে।’
এলিসি প্রাসাদ জানায়, প্রেসিডেন্ট তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে লেকর্নুকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী লেকর্নু মাখোঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দেশের বাজেট দ্রুত প্রণয়ন ও নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে কাজ করাই এখন আমার দায়িত্ব। গত এক বছরে ফ্রান্সে বাজেট ঘাটতি ও জাতীয় ঋণ কমানোর প্রশ্নে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। এ কারণে গত এক বছরে তিনজনের মধ্যে দুজন প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ দেশের উৎপাদনের প্রায় ১১৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা ইউরোজোনের তৃতীয় সর্বোচ্চ। এ বছর বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
লেকর্নু স্পষ্ট করে বলেছেন, কেউই রাষ্ট্রের আর্থিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যেতে পারবে না। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়বেন। জাতীয় সংসদে মাখোঁর কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। অথচ লেকর্নুকে আস্থা ভোটে জয়ী হতে হবে। এর মধ্যে এলাবে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা মাত্র ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার রাজনৈতিক জীবনে সর্বনিম্ন।
