খড়-ঘাস সংকটে খামারিরা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:২২ এএম

গরুর অন্যতম প্রধান খাদ্য খড় ও ঘাস। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় এসব গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় খড়ের দাম এখন দ্বিগুণেরও বেশি। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে ঘাসের দামও বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খামারি এবং গরু পালনকারী কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি আঁটি শুকনো খড় বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়। কাঁচা খড় প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকা দরে। কেজিপ্রতি খড় বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৮ টাকায়। এ ছাড়া এক বান্ডিল (১২ আঁটি) ঘাস বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। তাই গো-খাদ্য নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় খামারি ও কৃষকরা।

বিক্রেতারা বলছেন, গত ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে ধান ও খড় সময়মতো ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টির পানিতে খড় পচে নষ্ট হয়েছে। ফলে সে সময় কৃষক ও খামারিরা নতুন করে খড় সংগ্রহ করতে না পারায় সংরক্ষিত খড়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। এতে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

পীরগঞ্জ কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলায় প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খড়ের সংকট হতো না। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কারণে

কৃষকরা খড় সংগ্রহ করতে পারেননি। সেই কারণে খড়ের সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলার জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকার খড় ব্যবসায়ী মোকছেদুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুর এলাকার খড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫৫০ টাকা মণ দরে খড় কিনেছেন। পীরগঞ্জে প্রতি মণ ৬২০ থেকে ৬৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

কাবিলপুর ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, ইরি ধান কাটার সময় বৃষ্টি হওয়ার কারণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় খড় পচে গেছে। ফলে দ্বিগুণ দামে খড় কিনতে হচ্ছে। একই অবস্থা ঘাসেরও। বেশি দামে ঘাস কিনতে হচ্ছে। খড়ের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ কম। আর সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দাম নিচ্ছে।

চতরা ইউনিয়নের খামারি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘গত বছর যে দামে খড় কিনেছি, এবার তা দ্বিগুণ দামেও কেনা যাচ্ছে না।’ ঘাস বিক্রেতা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

পীরগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, এ রকম দুর্যোগ বা ক্রান্তিকালে সাইলেজ খাওয়ানো যেতে পারে। এজন্য খামারিদের সাইলেজ তৈরি করে রাখতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত