প্রশাসন কঠোর, কৌশলী ছাত্রদল-ছাত্রশিবির

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩৮ এএম

৩৫ বছর পর ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে কঠোর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। চাকসু নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের পর চাকসু নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্যানেল ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় রয়েছে শাখা ছাত্রদল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করার কৌশলকে কাজে লাগাতে চায় সংগঠনটি।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন : চাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গেল সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও সংগ্রহ করা প্রার্থীদের ডোপ টেস্টসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কমিশন। শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের সুবিধার্থে নির্বাচন পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য ভোটের বাক্স, ব্যালট পেপার ও দক্ষ লোকবলসহ সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৬০টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রতি কক্ষে গড়ে ৪০০-৫০০ শিক্ষার্থী ভোট দিতে পারবেন। সময়ের হিসাব বিবেচনায় একজন ভোটার পর্যাপ্ত সময় পাবেন ভোট দেওয়ার জন্য।

প্রতিটি ফ্যাকাল্টির ডিন রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ভোট অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রতি কেন্দ্রে একজন নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও প্রতি কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনের সরাসরি ভোট কার্যক্রম সম্প্রচার করা হবে। ইতিমধ্যে ছবি যুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎসেবা চালু রাখতে ইউপিএস ও জেনারেটর চালু রাখা হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটা সুন্দর পরিবেশে চাকসু নির্বাচন আয়োজন করা যাবে বলে আশাবাদী নির্বাচন কমিশন।

ভোটের মাঠে  নিজেদের অবস্থান নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকুক। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যেসব অনিয়ম ফুটে উঠেছে, তা চাকসু নির্বাচনে যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘জয়-পরাজয় মুখ্য বিষয় নয়, বরং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতন্ত্র উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আমরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু ও জাকসু এ দুই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। চাকসু নির্বাচনে এ দুই ছাত্র সংসদের কৌশলকে কাজে লাগাতে চায় সংগঠনটি। নির্বাচন সামনে রেখে বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে তারা। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং তাদের পূর্ববর্তী গোছানো কাজের ফলাফল ১৫ অক্টোবর দেখা যাবে চাকসু নির্বাচনে।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘ঢাকসু ও জাকসু নির্বাচনের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন চাকসু নির্বাচনের পরিস্থিতি। তবে এ দুই সংসদ নির্বাচনে যেহেতু আমাদের প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, তাই সেই অভিজ্ঞতাসহ আমাদের গোছানো কাজ চাকসু নির্বাচনে একটি গ্রহণযোগ্য ফল নির্ধারণ করবে। তবে এখনো পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থানের সম্পর্ক বজায় রয়েছে। চাকসু নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে আমরা বিজয় পাব বলে আশা রাখছি।’

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে শতভাগ আশাবাদী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। চাকসু নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী, নির্বাচন কমিশনার ড. আনোয়ার হোসেন।

এ সময় চাকসু নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মুনির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। ১৪ অক্টোবর থেকে সব নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলে আমাদের আশা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত