শিক্ষক-কর্মচারীদের মার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫১ এএম

মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ-প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) রাতের মধ্যে যদি প্রজ্ঞাপন বা কোনো ঘোষণা না দেওয়া হয়, তাহলে লংমার্চ ও চলমান কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’

এর আগে সকাল থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানান শিক্ষক নেতারা। এ সময় দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য এসেছে ৯০ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মবিরতি পালন করছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান পালন করছে না। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। যতক্ষণ প্রজ্ঞাপন জারি না হবে, ততক্ষণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’

আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে গতকাল সোমবার থেকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘লাগাতার কর্মবিরতি’ পালনের সিদ্ধান্ত নিলেও কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পালন হচ্ছে আবার কোথাও কোথাও হচ্ছে না। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সকালে রাজধানীর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাসাবো শাখার শিক্ষক মেজবাহুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলছে। এখানে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন না।’

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজেও ক্লাস চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তবে রাজধানীর ধানম-ির মেহেরুন্নিসা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রভাষক আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

রাজধানীর বাইরেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার টি আলী কলেজের প্রভাষক শান্ত আলী বলেন, ‘আমাদের কলেজে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস আছে। তবে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস চালাচ্ছে।’

এর আগে গত রবিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা এবং এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

দুপুর দেড়টায় পুলিশের অনুরোধে তারা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সরে গিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিতে অস্বীকৃতি জানান। একদল শিক্ষক ও পুলিশ পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ সেøাগান দেন। একপর্যায়ে পুলিশ পরপর বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, জলকামান দিয়ে পানি ছোড়ে এবং লাঠিপেটার মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। তবে গত ৫ অক্টোবর এই ঘোষণা প্রকাশ্যে এলে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের ডাক দেন। এরপর গত ৬ অক্টোবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা অন্তত ২ হাজার বা ৩ হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। আর ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ভাতা পেতেন, যা বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত