জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) প্রতীক বেছে নিতে আবারও চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চিঠিতে আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রতীক নিয়ে বিকল্প চাহিদা জানাতে হবে বলা হয়েছে। অন্যথায় স্বীয় পদ্ধতিতে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে বলে জানিয়ে ইসি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় শাপলা নেই তাই তাদের এটা দেওয়ার সুযোগও নেই।’
গত ২২ জুন এনসিপি নিবন্ধনের জন্য আবেদন দাখিল করে। ইতিমধ্যে তাদের নিবন্ধন চূড়ান্ত হয়েছে। নিবন্ধন আবেদনের সঙ্গে শাপলা প্রতীক সংরক্ষণের দাবি জানায় দলটি। এনসিপি দলীয় প্রতীক হিসেবে বারবার শাপলা দাবি করলেও ইসি তাতে রাজি হয়নি কমিশন।
শাপলা প্রতীক ইসির নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে না থাকায় সেটি বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শাপলা প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করার কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা আছে কি না? জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘কমিশন মনে করে শাপলাকে অন্তর্ভুক্ত করার দরকার নেই।’
সচিব আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রস্তুতিমূলক পর্ব সম্পন্ন করেছি এবং আরও কিছু প্রস্তুতি বর্তমানে চলমান রয়েছে। নির্বাচন একটি চলমান প্রক্রিয়া-এক নির্বাচনের পরপরই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়, বিশেষ করে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনসহ। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আমরা বর্তমানে কাজ করছি।’
সচিব আরও বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলাম। সেই সূত্রে বিভিন্ন সংগঠন থেকে আপনাদের মাধ্যমে আমরা মূল্যবান ও অর্থবহ তথ্য পেয়েছি। এজন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এই তথ্যগুলোর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আমরা প্রকৃত ও যোগ্য পর্যবেক্ষকদের চিহ্নিত করতে পারব।’
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১২টি দলের বিষয়ে আমরা অতিরিক্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তাদের নিযুক্ত করেছি। পাশাপাশি সচিবালয় থেকেও প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অর্থাৎ, সচিবালয় ও মাঠপর্যায়; উভয় স্তরেই তথ্য অনুসন্ধান চলছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমরা এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।’
অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আগামী ২০ তারিখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী-যেমন সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ইতিমধ্যে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।’
প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী ভোটারদের ভোট নিশ্চিতে অ্যাপটি তৈরি করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ বা সর্বোচ্চ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এটি লঞ্চ করতে পারব। তবে টেকনিক্যাল কোনো বিষয় সামনে এলে সামান্য সময় সমন্বয় হতে পারে। প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম বর্তমানে ১১টি দেশে চলছে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এবং মায়ামি ও লস অ্যাঞ্জেলেসেও উদ্বোধন হবে। পরবর্তী ধাপে ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ ও জর্ডানে কারিগরি টিম পাঠানো হবে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা আরও চারটি দেশের (বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স ও স্পেন) সম্মতি পেয়েছি। এভাবে মোট ১৯টি দেশে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।’
তবে এ নির্বাচনের আগে কতটুকু প্রবাসী ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে, তা সময় ও কারিগরি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী সামগ্রীর প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। প্রয়োজনীয় সব উপকরণ ইতিমধ্যে আমাদের সংগ্রহে এসে পৌঁছেছে। তাই এই ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি, আমাদের প্রস্তুতি এখন পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় রয়েছে।’
গণভোট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এ সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আমি কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করতে চাই না। কারণ, এ বিষয়ে সিদ্ধান্তটা তো অন্য জায়গা থেকে আসবে। নির্বাচন কমিশন মূলত নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকে।’
