যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের বাজেট নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির দ্বন্দ্ব দুই সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার আরও একবার ফেডারেল বাজেট পাস করার জন্য সিনেটে ভোটের আয়োজন করা হয়। চলতি বাজেটের অনুমোদন নেওয়ার জন্য এটা ছিল অষ্টম উদ্যোগ। এবার রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত বাজেটের বিপক্ষে ৪৯ ও পক্ষে ৪৫ ভোট পড়ে। যার ফলে অচলাবস্থা কাটেনি। তাই বাধ্য হয়েই জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচিত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের বেতনের বিকল্প উৎস খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। গতকাল বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ডেমোক্রেটদের দাবিতে কান না দিয়ে প্রশাসনকে ফেডারেল সরকারের খরচ জোগানোর বিকল্প উপায় খুঁজতে বলেছেন ট্রাম্প। গত রবিবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের সচিব ক্রিস্টি নোয়েম জানান, তার বিভাগ কিছু ‘অভিনব’ সমাধান খুঁজে পেয়েছে। যার ফলে কোস্ট গার্ডের সদস্যদের বেতন অব্যাহত থাকবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি নোয়েম। পাশাপাশি, সরকারি কর্মকর্তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্যেও কর্মীদের বেতনের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। নারী ও শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে এমন একটি কর্মসূচি এর অন্তর্ভুক্ত। ব্যবস্থাপনা ও বাজেট কার্যালয়ের (ওএমবি) মুখপাত্র বিবিসির প্রশ্নের জবাবে জানান, তারা পেমেন্ট নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস খুঁজছেন। সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারাও ‘জরুরি’ সেবাদাতা হিসেবে বিবেচিত এবং সরকারের প্রত্যাশা, বেতন না পেলেও তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। এ ধরনের সংস্থার মধ্যে আছে এফবিআই, মাদকদ্রব্য প্রয়োগ প্রশাসন (ডিইএ) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। এর আগে শনিবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে বলেন, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে ‘সব ধরনের তহবিল’ ব্যবহার করে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সব সদস্যের বেতন পাওয়া নিশ্চিত করতে।
শাটডাউন শুরুর পর থেকে ফেডারেল সরকারের কর্মীদের মধ্যে মোট ৪০ শতাংশের বেতন বিলম্বিত হয়েছে অথবা তাদের বেতন না দিয়ে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। সংখ্যায় তারা সাড়ে সাত লাখের মতো। এখন পর্যন্ত সাত দপ্তর থেকে চার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে প্রশাসন।
