চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শাহবাগে সমাবেশ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে বাম ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলো। সমাবেশে বক্তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন’ ব্যানারে আয়োজিত এ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। তারা দাবি করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংবিধানগত এখতিয়ার নেই এবং এমন পদক্ষেপ দেশের সম্পদকে বিদেশি স্বার্থের কাছে হস্তান্তরের সামিল।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘ড. ইউনুস আপনি ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন দেওয়ার কথা বললেও তা বাদ দিয়ে আপনি চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ডিসেম্বর মাসে চুক্তি করবেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাসে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি আমরা করতে দিব না। আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে দিব না। স্বাধীনতার পর থেকেই বুর্জোয়া শাসকগোষ্ঠীরা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে আসছে। বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোন অধিকার ড. ইউনুসের নেই। এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থবিরোধী শক্তিদের উৎখাত করা হবে।’

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর পূর্বেও ১৯৮ বছরের জন্য বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। রাজপথ ও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হয়েছিল। ড. ইউনূস বলেছেন জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে নাকি আমরা বর্বর থেকে সভ্য হয়েছি। আমরা বলতে চাই, আমরা সভ্যই ছিলাম, আপনি বর্বর হয়ে থাকলে আপনি সভ্য হয়ে উঠুন। বন্দর বিদেশিদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনরায় ঘোষিত হয়েছে। জনরায় উপেক্ষা করে যেকোন উপায়ে বন্দর ইজারা দিতে চান ড. ইউনূস। দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত রুখে দেওয়া হবে।’

ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘শুধু বিদেশিদের সুবিধা করে দিতেই ড. মুহম্মদ ইউনূস চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চায়। বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সাথে বিদেশি শক্তির ভূরাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। বন্দর নিয়ে যে সিদ্ধান্ত তা নির্বাচিত সরকার নেবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ সিদ্ধান্ত এখতিয়ার নেই।’

গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর যে আমরা স্বপ্ন দেখেছি তা বেহাত হয়ে গেছে, যেমন মুক্তিযুদ্ধ ও ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের যে প্রকৃত চেতনা তার বিপরীতে হাঁটছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে আমাদের জাতীয় স্বার্থ জড়িত। ইউনূস সরকারের পদক্ষেপ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী। বুর্জোয়ারা কখনোই জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জনের তৎপরতা প্রতিহত করতে হবে। বামপন্থীদের নেতৃত্বে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ডা. এম এ সাঈদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে রক্ষা করা একটি মুক্তির আন্দোলন। যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ধারণ করেন তাদের বন্দর রক্ষা আন্দোলনে যুক্ত হতে আহ্বান জানাই। জনগণকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোন কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে।’

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত