গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাকে হাজির করার ধার্য দিন আজ। তবে তারা হাজির না হলে কিংবা হাজির করা না হলে তাদের উদ্দেশে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল মঙ্গলবার এমনটি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী মোনাওয়ার হুসাইন (এম এইচ) তামীম। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা যদি কাল (আজ) হাজির হন এবং ট্রাইব্যুনাল যদি তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন, তাহলে কারা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে তারা কোন কারাগারে থাকবেন।’
আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে জোরপূর্বক গুম করে নির্যাতনের ঘটনার দুটি মামলায় গত ৮ অক্টোবর ৩০ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৫ জন সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত সেনা কর্মকর্তাসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর (আজ) হাজিরের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। দুই মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে। গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, ইতিমধ্যে ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ১৪ জন বর্তমান সেনা কর্মকর্তা। একজন কর্মকর্তা অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (এলপিআর) আছেন। এরপর ১৩ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গতকাল গাজী এম এইচ তামীম বলেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়েছিল আইজিপি (পুলিশের মহাপরিদর্শক) এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও পরোয়ানার কপি পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এখন আইন অনুযায়ী দুটি কাজ হতে পারে। একটি হলো তারা (আসামিরা) আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেন। অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসবেন।’ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে তারা যদি হাজির হন অথবা হাজির করানো হয়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল তাদের জামিন দিতে পারেন, যদি তারা জামিন চান এবং জামিনের যদি গ্রাউন্ড থাকে অথবা ট্রাইব্যুনাল তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘যদি আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়, তবে কারা কর্তৃপক্ষ যেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে তারা সিদ্ধান্ত নেবে যে ওনারা (আসামিরা) কোন কারাগারে থাকবেন।’
অ্যাডভোকেট গাজী এম এইচ তামীম আরও বলেন, ‘যদি ওনারা (আসামিরা) হাজির না হন অথবা হাজির না করলে আইনের বিধান অনুযায়ী, তাদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় (ইংরেজি ও বাংলা) বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে একটি তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে ওনারা যেন হাজির হন। যদি বিজ্ঞপ্তির পরেও তারা হাজির না হন, তাহলে তাদের পলাতক ঘোষণা করে তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স কাউন্সেল (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) দেওয়া হবে। এই স্টেট ডিফেন্স কাউন্সেল ওনাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন।’
