ক্রিকেটে নাম্বার ১১ ব্যাটার মানেই সাধারণত একেবারে শেষ ভরসা—যে ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে কেউই বড় ইনিংসের আশা করে না। তার কাজ কেবল কয়েকটা বল টিকে থাকা, যাতে অপর প্রান্তের পার্টনার রান করতে পারে। কিন্তু অনেক সময় এই শেষ ব্যাটাররাই হয়ে ওঠেন দলের ত্রাতা, বদলে দেন ম্যাচের মোড়।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা তেমনই এক ইনিংস খেললেন পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে। শেষ ব্যাটার হিসেবে নেমে খেললেন লড়াকু ৭১ রানের ইনিংস, যোগ দিলেন টেস্ট ইতিহাসে নাম্বার ১১ ব্যাটারদের সর্বোচ্চ ইনিংসের তালিকায়।
৩০৬/৯ অবস্থায় ব্যাট করতে নেমে রাবাদা গড়েন শেষ উইকেটে ৯৮ রানের দুর্দান্ত জুটি। তার ৭১ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা। এই ইনিংসেই দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস দাঁড়িয়ে যায় ৪০৪ রানে, যা দলকে পাকিস্তানের বিপক্ষে লিড এনে দেয়।
টেস্টে নাম্বার ১১ ব্যাটারদের সেরা পাঁচ ইনিংস
৫. কাগিসো রাবাদা – ৭১ বনাম পাকিস্তান, রাওয়ালপিন্ডি, ২০২৫**
রাবাদার ৭১ রানের ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকবে। শেষ উইকেটে তার ৯৮ রানের জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
৪. জহির খান – ৭৫ বনাম বাংলাদেশ, ঢাকা, ২০০৪
২০০৪ সালে ঢাকায় বাংলাদেশর বিপক্ষে ভারতীয় পেসার জহির খান নাম্বার ১১ ব্যাটার হয়েও করেছিলেন ৭৫ রান। শচীন টেন্ডুলকারের অপরাজিত ২৪৮ রানের ইনিংসে জহিরের ১৩৩ রানের জুটিই বড় সহায়তা ছিল।
৩. জেমস অ্যান্ডারসন – ৮১ বনাম ভারত, নটিংহাম, ২০১৪
ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার অ্যান্ডারসন ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ভারতের বিপক্ষে। স্টুয়ার্ট ব্রডের সঙ্গে তার জুটি ইংল্যান্ডকে এনে দেয় ৪৯৬ রান।
২. টিনো বেস্ট – ৯৫ বনাম ইংল্যান্ড, বার্মিংহাম, ২০১২
ওয়েস্ট ইন্ডিজের টিনো বেস্ট সাধারণত বোলিং দিয়েই নজর কাড়েন, কিন্তু বার্মিংহাম টেস্টে তিনি খেলেছিলেন ৯৫ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস। ডেনেশ রামদিনের সঙ্গে মিলে দলকে ৪২৬ রানে তুলেছিলেন।
১. অ্যাশটন অ্যাগার – ৯৮ বনাম ইংল্যান্ড, নটিংহাম, ২০১৩
২০১৩ সালের অ্যাশেজে নাম্বার ১১ হিসেবে ১৯ বছর বয়সী অ্যাশটন অ্যাগারের ৯৮ রানের ইনিংস আজও ক্রিকেট ইতিহাসে কিংবদন্তি। অভিষেকে মাত্র দুই রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন এই অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার। ১০১ বলে ১২ চার ও ২ ছয়ে গড়া ইনিংসটি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে টেস্ট ইতিহাসে নাম্বার ১১ ব্যাটারদের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে।
ভারত সফরে আল নাসর; রোনালদো কেন এলেন না?