ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯% নাগরিক!

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৩৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনি, এমন তথ্য উঠে এসেছে রয়টার্স ও ইপসসের একটি জনমত জরিপে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ডেমোক্র্যাটদের ৮০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সমর্থক।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, ছয় দিন ধরে চলা এই জরিপ গত সোমবার শেষ হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪ হাজার ৩৮৫ জনের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে ৩৩ শতাংশ বিপক্ষে। বাকিরা অনিশ্চিত বা উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ স্বীকৃতির বিরোধিতা করলেও ৪১ শতাংশ এর পক্ষে।  এই অনলাইন জরিপে প্রায় ২ শতাংশ ত্রুটির সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসরায়েল এই পদক্ষেপের নিন্দা করলেও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির সমর্থনে বিক্ষোভ ও নানা কর্মসূচি হয়েছে। 

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় লাখ লাখ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হন, এরপর থেকে দশকের পর দশক ধরে রক্তপাতপূর্ণ সংঘাত চলছে। ২০২৩ সালে হামাসের ইসরায়েলে আকস্মিক হামলার জবাবে তেল আবিব দুই বছর ধরে গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে, যা গাজার প্রায় সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। 

জরিপে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইসরায়েল গাজায় অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তবে ৩২ শতাংশ এই মতের সঙ্গে একমত নন। জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ট্রাম্প গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন জানিয়েছেন। তবে এই মাসে তার মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। 

জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা সফল হলে মার্কিনিরা এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে কৃতিত্ব দিতে প্রস্তুত। ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ সফল হলে তিনি ‘উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব’ পাওয়ার যোগ্য। ৪২ শতাংশ এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রতি ২০ জন ডেমোক্রেটের মধ্যে মাত্র একজন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। তবে প্রতি চারজনের একজন মনে করেন, শান্তি স্থায়ী হলে ট্রাম্পকে তার প্রাপ্য কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।

তবে গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সম্প্রতি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি বিস্ফোরণ ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতি প্রায় ভেঙে পড়েছিল। মার্কিন কূটনীতিকরা তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েল ও হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে পুনরায় পথে ফিরিয়েছেন। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর এখনো সমাধান হয়নি। 

রয়টার্স-ইপসসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতির প্রতি মার্কিনিদের আস্থা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাসের শুরুতে ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতির প্রতি ৩৩ শতাংশের আস্থা ছিল, যা সোমবার শেষ হওয়া জরিপে বেড়ে ৩৮ শতাংশ হয়েছে। জুলাইয়ের পর এটিই ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ আস্থার হার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত