চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে। বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক দায়েরকৃত রিট আমলে নিয়ে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রুল জারি করে।
রুলের বিষয়ে জানতে চাইলে কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাবিবুর রহমান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত এ ট্যারিফের কারণে শিপিং লাইনে ৭০ শতাংশ খরচ বেড়ে যাবে। এ ছাড়া বর্ধিত এ ট্যারিফের কারণে শিপিং কোম্পানিগুলোর খরচ বাড়াতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেখানেও আপত্তি দিচ্ছে। এ অন্যায্যতার কারণে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করে রুল জারি করেছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।’
এদিকে বর্ধিত ট্যারিফ প্রত্যাহারের জন্য পোর্ট ইউজার্স ফোরাম গত শনিবার এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যদি ট্যারিফ ইস্যুটি বন্দর সমাধান না করে, তাহলে বন্দর বন্ধের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল যাতে বিদেশিদের বরাদ্দ দেওয়া না হয়, সেজন্য বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) গতকাল আগ্রাবাদ এলাকায় বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এর আগে বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বন্দর পর্যন্ত এলাকায় কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। সমাবেশে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গণঅনশনের ডাক দেন স্কপ নেতারা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত ১৫ অক্টোবর থেকে বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর শুরু করে। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের পর তা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে চালুর কথা ছিল। পরে নৌ-উপদেষ্টা তা এক মাস পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর থেকে আদায়ের নির্দেশনা দেন। কিন্তু বর্ধিত এ ট্যারিফের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের দাবি, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে ট্যারিফ নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া বন্দর দুই-তিন হাজার কোটি টাকা নিট লাভ করছে। তাহলে ট্যারিফ বাড়াতে হবে কেন?
