ঢাকার পাশর্^বর্তী এলাকার নতুন নগর পরিকল্পনা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪৪ এএম

দ্রুত বাড়ছে ঢাকা ও এর পাশর্^বর্তী এলাকার জনবসতি। ২০৭০ সাল নাগাদ ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ৫ কোটি ৩৯ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সরকারের বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার আশপাশের এলাকায়ও জনসংখ্যার চাপ বাড়বে। বর্ধিত জনসংখ্যার বাসের নিশ্চয়তার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত নগরায়ণ। সেই নগরের অবকাঠামোর রূপরেখা প্রণয়নে একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর। আগেও এ ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ করেনি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানোর জন্য ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে। কারণ ঢাকা বিশে^র সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। এ মেগাসিটিতে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যবস্থায় জট সৃষ্টি হচ্ছে। উৎপাদনশীলতা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ঢাকা মহানগর। নগরীর যানজট নিরসন এবং নগরবাসী ও দর্শনার্থীদের গতিশীলতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ছয়টি এমআরটি লাইন এবং দুটি বিআরটি লাইনের সমন্বয়ে একটি গণপরিবহন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহত্তর ঢাকা মেট্রোপলিটান এলাকায় পাশর্^বর্তী অঞ্চলগুলোকে একীভূত করা হবে, যা ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উপায়ে শহরের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

মহৎ উদ্দেশ্যে এসব পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়ে থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেগুলোর কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এমনকি প্রণীত পরিকল্পনায় বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের ঘাটতি থাকে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমন্বয় সাধনের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশে পরিকল্পনার কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু সমস্যা হলো পরিকল্পনাগুলোর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া। এর কারণ বাস্তবায়ন কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত তারা পরিকল্পনার দিকে খেয়াল করেন না।’

পরিকল্পনা প্রণয়ন ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করে পরিকল্পনা কমিশন। কিন্তু সেখানে কোনো পরিকল্পনাবিদ নেই। যারা পরিকল্পনা তৈরি করছেন, পরিকল্পনা বিষয়ে তাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পেশাদার প্রতিষ্ঠান অপেশাদারভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে যেসব পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবায়ন কাজের কোনো মিল থাকছে না।’

ঢাকাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ‘ঢাকার পাশর্^বর্তী অঞ্চল কৌশলগত পরিকল্পনা‘ শীর্ষক যে প্রকল্প প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, তার অধীনে উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে স্থানিক উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ের কাঠামোগত পরিকল্পনা এবং নগর অঞ্চল পরিকল্পনা, গ্রোথ সেন্টার প্ল্যান, হাইওয়ে করিডর প্ল্যান, গণপরিসর প্ল্যান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এ পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন, পরিবহন নেটওয়ার্কভিত্তিক আবাসন অবকাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে নগর পরিষেবা ও গণপরিসরের সমন্বয় করা।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদি পরিকল্পনাটির বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এটির আওতায় কোনো ভৌত কাজ নেই। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত