কুমিল্লা নগরবাসীর কাছে যানজট এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজটে থমকে থাকে নগরের সড়ক, নষ্ট হয় কর্মঘণ্টা, ব্যাহত হয় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। এমন পরিস্থিতিতে ‘যানজটমুক্ত কুমিল্লা চাই’ স্লোগানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন নগরবাসী।
সমাবেশ থেকে যানজট নিরসনে ১০ দফা দাবি জানানো হয় এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখার উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নেতৃত্ব দেন সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী মুহাম্মদ রাশেদুল হাসান। পরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
১০ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
সীমিতসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মিশুক চলাচলের অনুমতি দেওয়া। চালকদের নির্দিষ্ট পোশাক ও আইডি কার্ড প্রদান। দূরত্বভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে চার্ট আকারে প্রকাশ। ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো ও সহায়ক নিয়োগ। অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ একটি অটোরিকশা বা মিশুকের মালিক হতে পারবেন। কেবল সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটাররাই এসব যানবাহনের মালিক হতে পারবেন। চিহ্নিত পোশাক পরা চালকদের অযথা হয়রানি না করা। চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে টহল জোরদার। ভাঙাচোরা সড়ক দ্রুত সংস্কার।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে দাবিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু না হলে কিংবা প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে রূপ না নিলে কুমিল্লাবাসী কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে। এতে নগরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কুমিল্লা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা মোজাহিদ চৌধুরী বলেন, “কুমিল্লা নগরে যানজট এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী ও রোগী—সবাই ভোগান্তিতে পড়ছেন। মানুষ এখন রাস্তায় নেমে এসেছে, কারণ দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।”
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কুমিল্লা জেলা আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক বলেন, “ইজিবাইক ও মিশুকের অবাধ চলাচল, অবৈধ পার্কিং আর বেহাল রাস্তাঘাটের কারণে কুমিল্লার সড়কগুলোতে নেমেছে বিশৃঙ্খলা। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এখন মানুষের হাঁটার জায়গাটুকুও নেই।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহ আলম বলেন, “যানজট নিরসনে নাগরিকদের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবির একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। আমি নিজেও দাবিগুলোর সঙ্গে একমত। ইতোমধ্যে আমরা যানজট সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এগুলোর বাস্তবায়নে আরও আট থেকে দশ দিন সময় লাগবে। নগরবাসীর স্বস্তি ফেরাতে আমরা সর্বোচ্চ কঠোর হব।”
হবিগঞ্জে বাবার বটির আঘাতে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ