ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় অবিলম্বে ‘শক্তিশালী’ হামলা চালানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলাবার সন্ধ্যায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ কথা জানিয়েছে।
গত সোমবার ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের হস্তান্তর করা একটি কফিনে আরেকজন মৃত জিম্মির দেহ নেই বলে ইসরায়েল জানানোর পর নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এমন কথা জানানো হলো।
ইসরায়েল বলছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, কফিনের দেহাবশেষ এখনো গাজায় থাকা ১৩ জিম্মির কারও নয়। এ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে গাজায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্পষ্টতই লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
ওদিকে হামাস এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, তারা গাজায় নতুন করে আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্ততিতে ‘অতিরঞ্জিত সব মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করছে’। গাজায় জিম্মিদের মৃতদেহ খোঁজার চেষ্টাও ইসরায়েল বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ হামাসের।
এদিকে ইসরায়েল ট্রাম্প প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হামাস বারবার লঙ্ঘন করছে বলে দাবি করেছে এবং এর জবাবে হামাসের ওপর তীব্র হামলা চালানো হবে বলে জানিয়েছে।
গাজায় নির্ধারিত এলাকার মধ্যে থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামাস গুলি ছুড়ছে বলে অভিযোগ ইসরায়েলের। তাছাড়া, হামাস ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ধোঁকা দেওয়ার চক্রান্ত করেছে’ বলেও অভিযোগ ইসরায়েলের।
সোমবার রাতে হামাস এক ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানায়। তবে ইসরায়েলের ভাষ্য, তারা এর ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখতে পেয়েছে যে, এ দেহাবশেষ দুই বছর আগেই তারা গাজা থেকে উদ্ধার করেছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া হামলার নির্দেশের পর এরই মধ্যে গাজায় হামলা শুরু হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে হামাস জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের হামলার কারণে আরেক জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তরের যে পরিকল্পনা ছিল, তা পিছিয়ে দিচ্ছে।
