সুইমিংপুলে ছাত্রীর মৃত্যু

বিচার দাবিতে রাবি উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩৭ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শিক্ষার্থী সায়মা হোসাইনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচারসহ চার দফা দাবিতে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনের প্যারিস রোড অবরোধ করে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, সুইমিং পুলসহ বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বরতদের অবহেলার কারণেই সায়মার মৃত্যু হয়েছে। এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে আমরা যে ৭২ ঘণ্টা বেঁধে দিয়েছি, তার মধ্যেই জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, নাহলে আমরা আরও কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলনে যাব। বিভাগের শিক্ষার্থী ঈশিতা পারভীন তিথি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা একটা হত্যাকা-। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেমের কারণে এবং সঠিক চিকিৎসার অভাবেই সায়মার মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের সঠিক ট্রিটমেন্ট পেলে কোনো শিক্ষার্থী মারা যেত না। আমাদের দাবি, এই হত্যার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং যারা এই অবহেলা করেছে, তাদের চাকরিচ্যুত করতে হবে। সায়মার পরিবারকে এমনভাবে আর্থিক সাপোর্ট দিতে হবে যেন তাদের অভাব না হয়।’

বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘২৬ অক্টোবর আমাদের সমাজবিজ্ঞানের মেধাবী শিক্ষার্থী সায়মা হোসেনকে প্রশাসনের অবহেলার কারণে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোনো মৃত্যু নয়, এটা হত্যা। প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়েছি। এর মধ্যে তারা যদি কোনো সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারে, তাহলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। এখন শুধু সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আন্দোলন করছে, তিন দিন পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ষাটটি বিভাগ আমাদের সঙ্গে নেমে আসবে।’

আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘‘আইন বিভাগ আমাদের বোনের হত্যার দাবিতে সংহতি জানাচ্ছি। এই হত্যাকা-কে কোনোভাবেই যেন ‘দুর্ঘটনা’ নাম দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা না করা হয়। এটা স্পষ্ট অবহেলা, যার জন্য কমপক্ষে ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- হওয়া উচিত। প্রশাসন যদি এখনো ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে আজ সায়মা মারা গেছে, কাল আমরা মারা যাব। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই তদন্ত রিপোর্ট পেশ করতে হবে এবং কোনো যেনতেন তদন্ত রিপোর্ট আমরা মানব না।’’

এর আগে, গত রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে নামলে পানিতে ডুবে যান সায়মা হোসাইন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সায়মা হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও মন্নুজান হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত