চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিতে প্রস্তুত পেন্টাগন

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে। সামরিক মজুতের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না—এমন মূল্যায়নের পর পেন্টাগন বিষয়টি হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছে। এখন চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে, জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তিনজন কর্মকর্তা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক কর্ম-ভোজে ট্রাম্প বলেন, তিনি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিতে আগ্রহী নন, কারণ ‘আমরা এমন কিছু দিতে চাই না, যা আমাদের দেশ রক্ষায় প্রয়োজন।’

জেলেনস্কি রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে থাকা জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে কার্যকর আঘাত হানতে এই ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছেন। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় এক হাজার মাইল। ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠকের ঠিক আগেই জয়েন্ট স্টাফ হোয়াইট হাউসকে জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের কোনো ক্ষতি হবে না।

এ মূল্যায়ন ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের আর ক্ষেপণাস্ত্র না দেওয়ার কোনো অজুহাত নেই। ইউরোপীয় দুই কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্প বৈঠকের কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘অনেক টমাহক’ রয়েছে, যা ইউক্রেনকে দেওয়া সম্ভব।

তবে তাদের বিস্মিত করে, বৈঠকের দিন ট্রাম্প হঠাৎ অবস্থান বদলান। হোয়াইট হাউসের ওই কর্ম-ভোজে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য’ টমাহকগুলো প্রয়োজন। পরে গোপন বৈঠকে তিনি জেলেনস্কিকে জানান, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র এসব ক্ষেপণাস্ত্র দেবে না।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আসে একদিন পর, যখন তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পুতিন তাকে বলেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোকে আঘাত করতে সক্ষম হলেও এতে যুদ্ধক্ষেত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না; বরং যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া সম্পর্কের ক্ষতি হবে।

হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য জানায়নি।

তবে সিএনএনকে দেওয়া সূত্র বলছে, ট্রাম্প এখনো বিষয়টি সম্পূর্ণ বাতিল করেননি। প্রয়োজনে দ্রুত টমাহক সরবরাহের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুতিনের শান্তি আলোচনায় অনীহায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প রুশ তেল কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এবং আপাতত বুদাপেস্টে নির্ধারিত পুতিন–ট্রাম্প বৈঠক স্থগিত করেছেন।

যদিও পেন্টাগনের মজুত নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই, তবু ইউক্রেন কীভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ নেবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, কার্যকরভাবে টমাহক ব্যবহারে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল সমস্যা সমাধান করতে হবে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মাধ্যম কী হবে। সাধারণত টমাহক নিক্ষেপ করা হয় জাহাজ বা সাবমেরিন থেকে, কিন্তু ইউক্রেনের নৌবাহিনী বর্তমানে অকার্যকর অবস্থায়। তাই সম্ভাব্য বিকল্প হলো স্থলভিত্তিক লঞ্চার। মার্কিন মেরিন কর্পস ও সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে এমন লঞ্চার তৈরি করেছে, যা প্রয়োজনে ইউক্রেনকে দেওয়া যেতে পারে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এসব লঞ্চার না-ও দিতে পারে, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করেন, ইউক্রেন নিজেরাই এর সমাধান বের করে ফেলবে। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্রিটেনের স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইউক্রেন নিজস্ব প্রকৌশলীদের দিয়ে সোভিয়েত যুগের পুরোনো যুদ্ধবিমানে সেটি চালানোর ব্যবস্থা করেছে।’

সপ্তাহের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি লেখেন, ইউক্রেন বছরের শেষ নাগাদ নিজেদের দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা বাড়াতে চায়, যাতে ‘যুদ্ধ ন্যায্য শর্তে শেষ করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা ও আমাদের নির্ভুল আঘাত একসঙ্গে কাজ করছে, যেন এই যুদ্ধ ন্যায়সংগতভাবে শেষ হয়। বছরের শেষের আগেই আমাদের সব গভীর হামলার লক্ষ্য পূর্ণভাবে অর্জিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতার সম্প্রসারণ।’

সূত্র: সিএনএন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত