‘কোনো প্লেয়ারকেই অবমূল্যায়ন করাটা ঠিক না’

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৪ এএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের আগামী ৫ বছরের জন্য দল নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ১১টি প্রতিষ্ঠান, চলছে যাচাই-বাছাই। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেক শর্তের বেড়াজালেই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আটকে রাখতে চাচ্ছে বিসিবি। নতুন গভর্নিং কাউন্সিল কতটা বদলাতে পারবে বিপিএলের ভাবমূর্তি, এই নিয়েই বিসিবি পরিচালক ও রংপুর রাইডার্সের টিম ডিরেক্টর শানিয়ান তানিমের সঙ্গে আলাপ সামীউর রহমান-এর

বিপিএলের আগামী ৫ মৌসুমের জন্য দল নিতে যারা আগ্রহী, তাদের জন্য অনেক নিয়মকানুনই বেঁধে দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। বছরে ১০০০ কোটির ব্যবসা, ১০০ কোটির মার্কেটিং বাজেট, ১০ কোটির ব্যাংক গ্যারান্টি... বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই শর্ত কি আদৌ পূরণ করা সম্ভব?

শানিয়ান তানিম : এটা তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেটা করছে সেটা তো ভালোই করছে, কারণ আগে সবসময় যেটা হতো যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি যে সব দল দেবে দিচ্ছে করে দিত না, দেরি করত, এখন সবাইকে যদি রাজি করিয়ে একবারে নিতে পারে তাহলে তো ভালো জিনিস। এসব শর্ত তো বলা হয়েছে পূরণের চেষ্টা করবে, এখানে তো অনেকেই আছে যাদের ১০০০ কোটি টাকার ব্যবসা নেই। দিনশেষে বিবেচনা করতে হবে যে ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজি হতে পারবে কি না, ভালো টাকা-পয়সা দিতে পারবে কি না। যদি টাকার নিশ্চয়তাটা নিতে পারেন, তাহলে একটু ড্যামেজ কন্ট্রোল হয় আরকি।

গত কয়েক মৌসুম ধরেই দেখে আসছি, বিপিএলের সঙ্গে অন্য আরও এক বা একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলে, তখন দেখা যায় আসরের মাঝপথে কিছু ক্রিকেটার দলে যোগ দিচ্ছেন, কেউ চলে যাচ্ছেন। এভাবে একটা দলের সমন্বয় প্রতিনিয়ত বদল হচ্ছে। আগামীতে কি এই দৃশ্যের পরিবর্তন দেখতে পাব?

শানিয়ান তানিম : এই মুহূর্তে যেহেতু নতুন বোর্ড আসছে, এই সময়টা ছাড়া (বিপিএল আয়োজন) খুব কঠিন। এই সময়টা ছাড়া আর তো কোনো বিকল্প নেই। এখন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা অনাপত্তিপত্র পাচ্ছে, এটা ভালো দিক। আইএলটি২০ এর সঙ্গেও খুব একটা সূচি নিয়ে সংঘর্ষ হবে না কারণ আইএলটি২০ জানুয়ারির ৩ তারিখের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। আমাদের আগে যে সমস্যাটা হতো, আমরা শুধু প্লে-অফের জন্য পেতাম বিদেশি ক্রিকেটারদের, রাউন্ড রবিন পর্যায়ের ম্যাচ খেলাতে পারতাম না, এই জায়গাটাতে একটু উন্নতি হয়েছে আইএলটি২০’র। আর বিগব্যাশের ক্রিকেটার খুব বেশি আমাদের এখানে আসে না। ওভাবে করে দেখলে শুধু এসএ২০’র সূচিই একটা সমস্যা, তবে আমাদের এখানে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারও খুব একটা আসে না, শুধু কিছু আফগান ক্রিকেটার ওদিকে যায়। এটা এভাবেই হয়ে আসছে, আমরা এ ব্যাপারটার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। দলের যে প্রতিনিয়ত সমন্বয় বদলাচ্ছে এটা পরিবর্তনের জন্য পরের বছর থেকেই সূচিটা সেভাবে সাজাতে হবে। খুব চিন্তাভাবনা করে এবং আদর্শ সময় বাছাই করে সূচিটা করা উচিত। আমরাও অনুরোধ করেছি যে ক্যালেন্ডারটা আগে থেকে ঠিক করে ফেললে সবারই সুবিধা হয়। এবার যেহেতু একটা জরুরি পরিস্থিতিতে এভাবে হচ্ছে, আগামীতে আমাদের সূচিটা আসলে বছরের শুরুতেই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জানিয়ে দেওয়াটাই ভালো।

কয়েকজন সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের কাছ থেকে প্রস্তাব এসেছে যে খেলোয়াড়দের ড্রাফটের বদলে নিলাম হলে ভালো, আপনার কাছে কি মনে হয়, ড্রাফট ভালো না নিলাম ভালো?

শানিয়ান তানিম : অবশ্যই নিলাম ভালো। নিলাম মানে যে ১০০ কোটি টাকা দিয়ে নিলামে প্লেয়ার নিয়ে নিলাম তারপর টাকা দিলাম না এ রকম না। একটা পার্স (খেলোয়াড় কেনার জন্য নির্ধারিত টাকার অঙ্ক) থাকতেই হবে। আমার কাছে মনে হয় স্থানীয় ক্রিকেটারদের যে নিলামটা হবে, সেই নিলামে আড়াই কোটি, তিন কোটি, সাড়ে তিন কোটি টাকার একটা পার্স থাকতে হবে, এই টাকা দিয়েই তাকে দল গুছাতে হবে। ১১টা ক্রিকেটার যে নেবে সেই সাড়ে ৩ কোটির ভেতরেই গুছাতে হবে। এতে করে হয় কি, একটা প্লেয়ারের দাম কতটুকু হওয়া উচিত, এটা ফ্র্যাঞ্চাইজিরা নির্ধারণ করে। অনেক সময় খেলোয়াড়দের অভিযোগ থাকে যে আমাকে ক্যাটাগরি-এ তে দেওয়া উচিত ছিল কিন্তু আমাকে ক্যাটাগরি-বি তে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমি সি-তে কেন আমার বি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু যখনই দামটা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ওপর দিয়ে দেবেন তখন খেলোয়াড়দের আর কোনো অভিযোগের সুযোগ থাকবে না। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা তো ওকে ঐ পরিমাণ অর্থের বেশি দিতে চায়নি।

সেই নিলামে যদি একজন ক্রিকেটারের দাম শুধু উঠতেই থাকে তখন কী হবে? কোনো সর্বোচ্চ দাম ঠিক করে না দিলে তো দাম কেবল বাড়তেই থাকবে?

শানিয়ান তানিম : কোনো সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি একটা দলের আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকা বাজেট হয় তাহলে, ঐ টাকা দিয়ে তো ১১ জন প্লেয়ার নেওয়াই লাগবে। সব প্লেয়ার তো আর সোল্ড হয় না, তাই খুব একটা প্লেয়ারের জন্য ওভারস্পেন্ডিং করতে হয় না। নিলাম চালু করতে গেলে প্রতিটা দলের জন্য খেলোয়াড় কেনা বাবদ খরচের একটা অঙ্ক নির্ধারিত করে দিতে হবে। আমি এটার পক্ষে।

ড্রাফটের বেলায় দেখা যায় অনেক খেলোয়াড় পছন্দের দল পান না, তাদের অভিযোগ যে ভালো দলে ডাক পাওয়ার আগেই অন্য দল ডেকে ফেলেছে। নিলাম হলে তো এই কথা বলার সুযোগও থাকছে না, তাই না?

শানিয়ান তানিম : ড্রাফট তো লটারি। লটারিতে যার মন চায় যাকে খুশি তাকে নেয়। নিলাম হলে কিন্তু আপনি কার জন্য কত টাকা দিতে পারবেন, যেহেতু একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের ভেতরে দল গুছাতে হবে, ওটা নিয়ে একটু অঙ্ক করতে হবে, তখন কাকে কত  দেবেন সেই সমীকরণটা কাজে লাগবে। নিলামে প্লেয়ারের যেহেতু একটা প্রাইস ট্যাগ থাকে, অনেক বেশি দামে যাবে, সে সেই সম্মানটা রাখতে পারবে নাকি... সব কিছু মিলিয়ে এটা আসলে ভালো। আর একটা চমকেরও তো ব্যাপার থাকে!

বিপিএলে মাশরাফী, সাকিব, তামিম, মুশফিক এরা ছিলেন আইকন ক্রিকেটার এবং বড় একটা অঙ্কের অর্থ তারা বিপিএলে পেতেন। তাদের একটা গ্রহণযোগ্যতা, তারকাখ্যাতি ছিল, তাদের দেখে স্পনসররাও আসতেন। বাংলাদেশের এই সময়ের যারা টি-টোয়েন্টি খেলছেন, তাদের মধ্যে কি এসব সক্ষমতার অভাব দেখতে পান? স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা ভিত্তিমূল্য থাকা উচিত?

শানিয়ান তানিম : এটা আসলে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আগের প্রজন্মের চেয়ে তাদের আকর্ষণ কম এটা আমার কাছে মনে হয় না। প্লেয়ারদের তাদের সম্মানের জায়গাটা দিতে হবে। এখন যদি তামিম সাকিবরা যত টাকা পেয়েছেন, সেটা বর্তমান প্লেয়ারদের না দেন... ক্যালিবার আর পটেনশিয়াল এই প্লেয়ারদেরও আছে। কোনো প্লেয়ারকেই অবমূল্যায়ন করাটা ঠিক না, অন্তত আমার কাছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত