ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের চলমান নির্যাতন বন্ধের দাবিতে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ ও সমাবেশ ক্রমশ শক্তিশালী এবং ব্যাপক আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি ইসরায়েল বয়কটের ডাক এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।
দুই দশকেরও বেশি সময় আগে সাধারণ সুপারমার্কেট থেকে শুরু হওয়া নীরব বয়কট এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও জনপ্রিয় অ্যাপগুলোতে স্থান করে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ, ছত্রভঙ্গ শিবির এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা, ইসরায়েলে বিনিয়োগ হ্রাস এবং বিশ্বের কিছু প্রধান অর্থনীতির দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এই আন্দোলনের প্রতিফলন।
বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ওমর বার্গৌতি আল জাজিরাকে জানান, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্রমশ চাপে পড়ছে। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং ইসরায়েলের দখল ও বর্ণবাদী নীতি বিলোপ করা। এটি কোনো ব্যক্তির উপর কেন্দ্রীভূত নয়, বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক চিহ্নিত করে তাদের উপর উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করে।
বার্গৌতি বলেন, ‘বিডিএস আন্দোলন ইসরায়েল সরকারের আন্তর্জাতিক সহায়তা সীমিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’
তিনি আরও জানান, ইসরায়েল এক্সপোর্ট ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান এভি বালাশনিকেফও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই চ্যালেঞ্জ স্বীকার করেছেন। বালাশনিকেফ মন্তব্য করেন, ‘অর্থনৈতিক বয়কট এবং বিডিএস-এর মত সংগঠনগুলো বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে; কিছু দেশে আমাদের কার্যক্রম গোপনভাবে পরিচালনা করতে হচ্ছে।’
বার্গৌতি যোগ করেন, ‘বিডিএস আন্দোলন বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের সংহতিকে কৌশলগত, শান্তিপূর্ণ এবং অত্যন্ত কার্যকরী বয়কট ও বিনিয়োগ প্রত্যাহারের কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করেছে।’
এখন পর্যন্ত বিডিএস আন্দোলন বহু কোম্পানিকে চিহ্নিত করেছে, যেগুলো ইসরায়েলের দখল, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা বর্ণবাদী নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে আমাজন, মাইক্রোসফট, ডিজনি এবং কোকাকোলা মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
বিকেলে জানা যাবে এলপি গ্যাসের নতুন দাম
তুরস্ক থেকে সিরিয়ায় ফিরলেন সাড়ে ৫ লাখ শরণার্থী