যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত ৪

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২০ এএম

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছে। গত শনিবার এক বিবৃতিতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, নাবাতিয়েহ জেলার কফারসির শহরে ইসরায়েলি হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছে। এই হামলা হিজবুল্লাহর সঙ্গে প্রায় এক বছরের দীর্ঘ যুদ্ধবিরতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম লেবানন নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার একদিন আগে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন অভিযোগ করেছিলেন যে, সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি উদ্যোগের প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে। আউন বলেছিলেন, তিনি সীমান্তে গোলা ছোড়াছুড়ি বন্ধ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানানোর পর এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয় ২০২৩ সালে, যখন গাজায় ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা শুরু করে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর উভয় পক্ষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি এলাকায় সেনা মোতায়েন রেখেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালাচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসরায়েল দাবি করে এসব হামলার লক্ষ্য হিজবুল্লাহ। তবে এতে বেসামরিক মানুষ, উদ্ধারকর্মী ও সাংবাদিকরাও নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে কমপক্ষে ১১১ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েল অভিযোগ করেছে যে লেবানন সরকার যুদ্ধবিরতির শর্ত মানেনি এবং হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ বা নিরস্ত্র করতে ব্যর্থ হয়েছে।

উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় যখন সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট আউন লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে দক্ষিণ সীমান্তে যে কোনো নতুন ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ ঠেকানোর নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েলি সেনারা সীমান্তবর্তী ব্লিডা শহরে ঢুকে পড়ে। তারা টাউন হলে অভিযান চালিয়ে সেখানে ঘুমিয়ে থাকা পৌর কর্মচারী ইব্রাহিম সালামেহকে গুলি করে হত্যা করে বলে রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত