অনিল আম্বানির ৩ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৯ এএম

অর্থ তছরূপ ও জনসম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অনিল আম্বানি নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গ্রুপের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মুম্বাইয়ের পালি হিলের বিলাসবহুল পারিবারিক আবাসন, দিল্লিতে অবস্থিত রিলায়েন্স সেন্টার এবং অন্তত ৮টি শহরের স্থাবর সম্পত্তি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৮৪ কোটি রুপি।

গত ৩১ অক্টোবর প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ জারি করা হয়।

বাজেয়াপ্ত হওয়া রিয়েল এস্টেট সম্পত্তিগুলো দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদ, মুম্বাই, পুনে, থানে, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই এবং অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরিসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক ইউনিট, অফিস চত্বর এবং জমির অংশ।

কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি জানিয়েছে, তারা রিলায়েন্স হোম ফিন্যান্স লিমিটেড (আরএইচএফএল) এবং রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিন্যান্স লিমিটেড (আরসিএফএল)-এর মাধ্যমে উত্থাপিত জনসম্পদ সরিয়ে নেওয়া এবং তছরূপের তদন্ত করছে। ইডি’র অভিযোগ, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্ক বিভিন্ন উপায়ে আরএইচএফএল-এ ২ হাজার ৯৬৫ কোটি রুপি এবং আরসিএফএল-এ ২ হাজার ৪৫ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছিল। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিনিয়োগগুলো নন-পারফর্মিং অ্যাসেটে (এনপিএ) পরিণত হয়। সেই সময় আরএইচএফএল-এর বকেয়া ছিল ১,৩৫৩.৫০ কোটি রুপি এবং আরসিএফএল-এর ১ হাজার ৯৮৪ কোটি রুপি।

তদন্তে জানা গেছে, সেবি-এর স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত কাঠামো অনুযায়ী অনিল আম্বানির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর আর্থিক সংস্থাগুলোতে রিলায়েন্স নিপ্পন মিউচুয়াল ফান্ডের সরাসরি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু, ইডি-র দাবি, এই বিধিনিষেধ এড়াতে মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ ঘুরপথে ইয়েস ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আরএইচএফএল এবং আরসিএফএলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখান থেকে সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত অনিল আম্বানির সংস্থায় প্রবেশ করে।

ইডি জানিয়েছে, তাদের অর্থ-অনুসন্ধান কার্যক্রমে ব্যাপক হারে তহবিল অন্য খাতে সরিয়ে দেওয়া এবং গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থা এটিকে ‘ইচ্ছাকৃত এবং ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অভিযোগ, যথাযথ যাচাই ছাড়াই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আবেদন ও অনুমোদনের দিনই প্রক্রিয়া করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই ঋণ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সুরক্ষার নথিগুলো হয় ফাঁকা ছিল বা সেগুলোতে কোনো তারিখ ছিল না। এছাড়াও, বেশ কিছু ঋণগ্রহীতা সংস্থার ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল নগণ্য।

এদিকে, ইডি রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (আরকম) এবং এর সম্পর্কিত সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির মামলায় তদন্ত জোরদার করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি রুপি ‘লোন এভারগ্রিনিং’-এর মাধ্যমে অন্য খাতে সরানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১২ হাজার ৬০০ কোটি রুপি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এবং ১ হাজার ৮০০ কোটি রুপি স্থায়ী আমানত ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, যা পরে গ্রুপ সংস্থাগুলোর সুবিধার জন্য নগদীকরণ করা হয়। তদন্তকারীরা বিল ডিসকাউন্টিং অপব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে তহবিল সরানোর ঘটনাও ধরেছেন।

কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা অপরাধের অর্থ অনুসরণ করা এবং বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিগুলো সুরক্ষিত রাখার কাজ চালিয়ে যাবে। তাদের লক্ষ্য হলো, এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা অর্থ সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও বিনিয়োগকারীদের তহবিল রক্ষায় ব্যবহার করা।

সূত্র: সিএনএন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত