আদেশ ভঙ্গে রংপুর ডিসি-প্রেসক্লাব প্রশাসকের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন আদালত

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৯ পিএম

আদালতের আদেশ ভঙ্গ করায় রংপুরে ডিসি, প্রেস ক্লাব প্রশাসকসহ সমাজসেবার তিন কর্মকর্তার কাছে জবাব চেয়েছেন আদালত। রবিবার রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক কৃষ্ণ কান্ত রায় এ আদেশ দেন।

এর আগে ৩০ অক্টোবর প্রেস ক্লাবের সদস্য অর্ন্তভুক্তিতে আদালতের আদেশ অমান্য করায় প্রেস ক্লাব কমিটির পক্ষে মামলা করা হয়। মামলায় প্রতিপক্ষ করা হয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও প্রেস ক্লাব প্রশাসক রমিজ আলম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৩ কর্মকর্তাকে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রংপুর আদালত চত্ত্বরে সংবাদ সম্মেলনে করে এ তথ্য জানান প্রেস ক্লাব মামলার আইনজীবি অ্যাড. জোবাইদুল ইসলাম ও অ্যাড. মাহে আলম।

অ্যাড. জোবাইদুল ইসলাম বলেন, রংপুর প্রেস ক্লাবে সদস্য অন্তর্ভূক্তি নিয়ে আদালতে থাকা মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবের তর্কিত প্রশাসকসহ উভয়পক্ষকে সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু জেলা জজের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে রংপুরের ডিসি, প্রেস ক্লাবের তর্কিত প্রশাসক আদালতের আদেশকে ছুঁড়ে ফেলেছে। তারা মনে করেন প্রশাসনের আন্ডারে আদালত। আমরা আইনজীবী হিসেবে আদালতের প্রতি এমন অবজ্ঞা মেনে নিতে পারি না। এ লক্ষ্যে প্রেস ক্লাব কমিটির পক্ষে আমরা একটি ভায়োলেশন কেস ফাইল করেছি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর বর্তমান ডিসি মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল ২০১৪ সালে দিনাজপুর কাহারোল উপজেলার সাবেক ইউএন থাকাকালীন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রার্থী মনোরঞ্জনশীল গোপালকে বিজয়ী করতে সহযোগিতা করেছে। তিনি বর্তমানে গণজাগরণ মঞ্চের নেতাসহ ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের পুনর্বাসন করতে আইন-আদালত কিছুই মানছেন না। আমরা চাই আইন ভঙ্গকারী ডিসি, প্রেস ক্লাবের তর্কিত প্রশাসকসহ সমাজসেবা কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। 

অ্যাড. মাহে আলম বলেন, রংপুরের সর্বোচ্চ আদালত বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতকে অবমাননা-অবহেলা করে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল ও প্রেস ক্লাবের তর্কিত প্রশাসক রমিজ আলম। তারা আদালতের নিষেজ্ঞাকে অমান্য করে প্রেস ক্লাবের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং জেলা প্রশাসক সেই সদস্যের তালিকা তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বুঝিয়ে দিলেন যে আদালত অবমাননার জন্য প্রেস ক্লাবের তর্কিত প্রশাসকসহ তিনিও জড়িত রয়েছেন। আমরা এই আদালত অবমাননাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।

অ্যাড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, প্রেস ক্লাব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে কোনও সরকার বা প্রশাসন এই প্রেস ক্লাবে হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রশাসন প্রেস ক্লাবের ইস্যুতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছেন। তারা একটি নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে প্রেসক্লাবে প্রশাসক নিয়োগসহ গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে ভুইফোঁড় কিছু সাংবাদিককে সদস্য করা হয়েছে। এই অবৈধ প্রশাসক রমিজ আলম ও জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল নতুন সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতকে তোয়াক্কাই না।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত