প্রতারণা ঠেকাতে ভারত-বাংলাদেশের ভিসা গণহারে বাতিলের ক্ষমতা চায় কানাডা সরকার

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:০১ পিএম

ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আসা ভিসা প্রতারণা ঠেকাতে গণহারে ভিসা আবেদন বাতিল করার ক্ষমতা চেয়েছে কানাডার ফেডারেল সরকার। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে সিবিসির নিউজের এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (আইআরসিসি), কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) এবং একটি মার্কিন সংস্থা যৌথভাবে ভুয়া ভিসা আবেদন শনাক্ত ও সেগুলো বাতিল করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

নথিতে বলা হয়েছে, এই দলটি ‘ভারত ও বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্চ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ ভারত ও বাংলাদেশকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা।

নথির একটি অংশে বলা হয়েছে, এই গণ ভিসা বাতিলের ক্ষমতা ভবিষ্যতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যেতে পারে — যেমন মহামারি, যুদ্ধ, বা নির্দিষ্ট কোনো দেশের ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে।

যদিও প্রকাশ্যে ইমিগ্রেশন মন্ত্রী লিনা ডিয়াব বলেছেন, সরকার এই ক্ষমতা চাইছে শুধু ‘মহামারি বা যুদ্ধের সময় প্রয়োজনে’। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের ভিসাধারীদের প্রসঙ্গ আনেননি।

নথিতে দেখা গেছে, ভারতীয় নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন ২০২৩ সালের মে মাসে প্রতি মাসে ৫০০’র নিচে থাকলেও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজারে পৌঁছেছে। ভারত থেকে আসা অস্থায়ী ভিসা যাচাই করতে সময় বেশি লাগায় প্রক্রিয়াকরণের গতি ধীর হয়ে গেছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের জুলাইয়ের শেষে যেখানে গড়ে ৩০ দিনে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৫৪ দিনে পৌঁছায়। একই সঙ্গে, অনুমোদনের সংখ্যাও কমে যায়— ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যেখানে ৬৩ হাজারের বেশি ভিসা মঞ্জুর হয়েছিল, জুনে তা নেমে আসে প্রায় ৪৮ হাজারে।

৩১ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৮৭৩ জন আবেদনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশ থেকে আসা ভিসা বা আশ্রয় দাবির কোনো তথ্য নথিতে উল্লেখ করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত